চাকরি থেকে অবসর নেবার পর থেকে সারাদিন শুধু বাড়িতে বশে থেকে বিরক্ত লাগত। খবরের কাগজে শুধু চুরি আর খুনের খবর ছাড়া যেন আর কিছুই নেই। জীবনটা যেন এক ঘেয়ে হয়ে যাচ্ছিল। ঠিক সেই সময়ে একদিন হঠাৎ শান্তনুর ফোন পেলাম। শান্তনু আমার সহ কর্মী ছিল। সে কিছু দিনের জন্য তার পৈত্রিক বাড়ি যাবে তাই বলল আমাকেও তার সাথে যেতে। আমি ভাবলাম বাড়িতে বশে থেকে কিছুই যখন করছি না তার থেকে ওর সাথে একটু ঘুরে আসি তাই শান্তনুর প্রশ্তাবে হ্যাঁ করে দিলাম।

পরেরদিন দিন সকালে শান্তনু আমাদের যাবার জন্য গাড়ি পাঠিয়েছিল আর সেটাতেই চেপে আমরা পাস্কুরা রওনা দিলাম। আমাদের পৌছতে একটু সময়ে বেশি লাগলো কারন মাঝ পথে গাড়ি থামিয়ে আমরা একটু খাওা দাওয়া করে নিয়েছিলাম। এক দারোয়ান এসে গেট খুলে দিল। এত সুন্দর পরিবেষ আমি খুব কম দেখেছি। নুড়ি পাথর বিছানো রাস্তা দিয়ে বাড়ির সদর দরজায়ে পৌঁছলাম। বাড়ির উত্তরে এক বিশাল বাগান। দেখলাম তাতে অনেক রকম ফুলের গাছ। কিছু ফলের গাছও চোখে পরল। এমন কিছু ফুল দেখতে পেলাম যেগুলো বধায়ে কোনদিন দেখিনি। একটা থমথমে পরিবেশ লক্ষ্য করলাম আর সেটা বোধয়ে এখানে কেউ থাকে না তাই বলে।

শান্তনু দেখলাম বাড়ির দাড়িয়ে আছে। হেসে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, “ আয়ে আয়ে”। “ আশা করি আশ্তে কোন অসুবিধে হয়েনি!”

“আরে না না। খুভ ভাল ভাবে এসেছি”। আমি বললাম।

“চল, তোর থাকার ঘড়টা দেখিয়ে দি। একটু বিশ্রাম করে নিবি”।

কথা বলতে বলতে বাড়ির উত্তর দিকে এসে পরলাম একটা ছোট বারান্দায়ে। শান্তনু বলল বারান্দার শেষ গরটা আমার। নিজের ব্যাগটা রেখে আমি বেরিয়ে এলাম। সামনের দিকে একটা বিশাল সবুজ মাঠ। মনে মনে ভাবলাম এই রকম দৃশ্য কলকাতায়ে এখন বিরল। মাঠের পাশে একটা পুকুর। বেশ ভাল করে বাঁধানো, পরিষ্কার।

বেরারা ট্রেতে করে চা নিয়ে এল।

“তোর এখনো মনে আছে যে আমি লিকার চা পছন্দ করি?” প্রথম চুমুক দিয়ে আমি জিজ্ঞেশ করলাম।

শান্তনু নিজে চুমুক দিয়ে একটা ছোট হাসি দিল।

চা শেষ করে কাপটা রাখার সময়ে শান্তনু বলল, “ বিকেলে তোকে নিয়ে বেরবো। দেখবি তোর দারুন লাগবে”।

বিকেলে আমরা বেরলাম। “চল! তোকে আগে গ্রামটা ঘুরে দেখাই”। এই বলে আমরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে উত্তরের দিকে হাঁটা শুরু করলাম। কিছু দূর হাঁটার পর আমরা একটা গলির ভিতরে ঢুকলাম। কিছু দূর যাবার পর আমরা সেই মাঠের পাশে এসে পরলাম। শেরপা একটা ছোট দৌড় দিয়ে কিছুটা এগিয়ে গেল। নিজে একটা সিগারেট ধরালাম আর শান্তনুকে একটা দিলাম।

একটা টান দিয়ে শান্তনুতে বললাম, “জানিস এই ছেলেমেয়েদের খেলতে দেখতে নিজের ছোট বেলাকার কথা মনে পরে যাচ্ছে”।

“ঠিক বলেছিস রে! দারুণ লাগছে দেখতে”।

এই বলতে বলতে আমরা আরও দূরে এগিয়ে গেলাম। একটা বিশাল বাড়ির সামনে এসে আমি দাঁড়ালাম। “বাহ! কি সুন্দর বাড়িটা”। “কার বাড়ি এটা?” আমি জিজ্ঞেশ করলাম।

“রাধামোহন মল্লিক”। “ ওই যে মাঠ আর পুকুর দেখলি, সেইগুলি এক কালে এনার পূর্বপুরুষদের ছিল”। “এখানকার জাঁদরেল জমিদার ছিলেন এই মল্লিকরা!” শান্তনু শেষ টানটা দিয়ে বলল। “এখন রাধামোহন মল্লিক একা থাকেন”।“ তোকে একদিন নিয়ে আসব। দারুন লাগবে”। বলতে বলতে আমরা বাড়িটার পাশ দিয়ে এগিয়ে গেলাম। যেতে যেতে দেখলাম একটা জানলা দিয়ে কেউ আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। মনে মনে ভাবলাম “এই কি রাধামহন মল্লিক?”

বাড়ি ফিরতে ফিরতে রাত হল। রাতে ভাত দিয়ে কোচি পাঠার ঝোল খেয়ে ঘরের সামনের বারান্দায়ে এলাম একটা সিগারেট খেতে। দূরে দেখলাম রাধামোহনবাবুর বাড়ি ছাঁদ দিয়ে কেউ যেন হেঁটে চলে গেল। সিগারেট শেষ করে আমি ভিতরে শুতে এলাম। দেখলাম শেরপা শুয়ে পড়েছে।আমিও লাইট নিভিয়ে শুয়ে পরলাম।

পরেরদিন সকালে আমার ঘুমটা ভাঙল চোখে সূর্যের আলো পরাতে। উঠে দেখি শেরপা নেই। বাইরে বেড়িয়ে বারান্দায়ে এসে দেখলাম নিচে শেরপা আর শান্তনু বাগানে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমায়ে দেখে বল্ল-“গুড মর্নিং! কেমন হল ঘুম?”

“খুভ ভালো! অনেক দিন পর এত ভালো ঘুম হল”।

“মুখ ধুয়ে নিচে আয়ে। বাগানে চা আনাচ্ছি”।

মিনিট কুড়ির পর আমি নিচে এলাম। দেখলাম বাগানে একটা টেবিলে চা আর একটা প্লেট বিস্কুট রয়েছে। একটা কাপ হাথে নিয়ে বাগানটা ঘুরে দেখতে লাগলাম। দেখি শান্তনু বাড়ির চাকরটা হাঁপাতে হাঁপাতে গেট দিয়ে প্রবেশ করল।

শান্তনু বলল, “কিরে গোবিন্দ? হাঁপাচ্ছিস কেন? কি হয়েছে?”

হাঁপাতে হাঁপাতে গোবিন্দ জবাব দিল, “ বাজার থেকে ফেরার সময়ে দেখি মল্লিকদের বাড়িতে পুলিশের গাড়ি। “জিজ্ঞেশ করাতে জানতে পারলাম কাল রাতে নাকি অই বাড়িতে চোর এশেছিল”।

“সেকি”! বলল শান্তনু।

এই বলে গোবিন্দ ভিতরে চলে গেল।

তার মানে আমি কাল রাতে যাকে ছাঁদে দেখেছিলাম সেই কি চোর? আমি মনে মনে ভাবলাম।

“ভাবিনি যে এতো তারাতারি ওই বাড়ির জাবার সুযোগ হবে!” এই বলে আমরা মল্লিকবাবুর বাড়ির দিকে এগলাম।

মল্লিক বাড়িতে পৌঁছানর পর আমাদের দেখে একজন ভদ্রলোক এগিয়ে এলেন। মাঝারি হাইট, একটু চাপা গায়ের রং, পরনে প্যান্ট আর পাঞ্জাবি। ভদ্রলোক আমাদের দিকে নমস্কার করতে করতে এগিয়ে এল। বাড়িতে ঢোকার সময়ে লক্ষ্য করলাম পুলিশের গাড়ি বেড়িয়ে যেতে।

শান্তনু একটু চাপা গলায়ে বলল, “ইনি হচ্ছে চন্দন সরকার। মল্লিকবাবুর আর বাড়ির দেখাশোনা করে”।

আমরা নিজদের মধ্যে নমস্কার পর্বটা সেরে নিলাম।

“শুনলাম কাল রাতে নাকি চোর এশেছিল?” শান্তনু প্রশ্ন করল।

“মল্লিকবাবুর ঘরে”, উত্তর দিল চন্দনবাবু

কথা বলতে বলতে আমরা শ্বেত পাথরের সিঁড়ি দিয়ে দোতলায়ে উঠলাম। উঠে দেখি বারান্দার শেষ প্রান্তে একজন বশে আছেন। বুঝলাম উনি রাধামহন মল্লিক।

আমরা একটা ঘরে প্রবেশ করলাম। “ এই ঘরেই কি চোর এশেছিল?” আমি প্রশ্ন করলাম।

চন্দনবাবু মাথা নেড়ে হাঁ বললেন।

“আপনি টের কখন পেলেন?”

“ সকালে আমার প্রথম কাজ হল মল্লিকবাবুকে ঘুম থেকে তুলে তাকে ছাঁদে নিয়ে জাওয়া”। “ আজ যখন আমি তাকে তুলতে আসি দেখি তিনি উঠে কাঠে বশে আছেন। তাকে জিজ্ঞেশ করাতে জানতে পারলাম।“

“এর আগে কখনও হয়েছে কি?”

“আমার তো জানা নেই!”

কাটের পাশে টেবিলের উপর দেখলাম ঘুমের ওষুধের সিশি।

“মল্লিকবাবু কি রাতে ঘুমের ওষুধ খান?”

“আজ্ঞে হ্যাঁ”।

কিছুক্ষণ ঘরটা ঘুরে দেখতে লাগলাম। “এই ঘরে কি তেমন কিছু জিনিস আছে কি?”

কিছুক্ষণ ভেবে চন্দনবাবু উত্তর দিলেন, “তেমন তো কিছু আমার জানা নেই। কাঠের নিছে একটা ছোট সিন্দুক আছে আর এই আলমারিটা।“

“চাবি কথায়ে থাকে?”

“রাধামোহন বাবুর বালিশের নিছে”। এই বলে সে বালিশের নিছে থেকে চাবির গুচ্ছটা বার করল।

চাবিগুলো নিয়ে আমি প্রথমে সিন্দুকটা খুললাম। কিছু কাগজ রয়েছে আর একটা অ্যালবাম আর তেমন কিছু দেখলাম না।

“আমি এইগুলি নিতে পারি?”

একটু ইতস্তত হয়ে চন্দনবাবু উত্তর দিল, “আশলে পুলিশ কিছু হাত দিতে বারন করেছে তাই……”

শান্তনু বলল, “পুলিশের সাথে আমি কথা বলে নেবো”

“তাহলে আর কি আপত্তি?” চন্দনবাবু বলল।

আমি জিনিশগুলো শান্তনুকে দিলাম। সিন্দুকটা বন্ধ করে আলমারির দিকে এগলাম।

লক্ষ্য করালাম চাবির জায়েগাতে খতোর দাগ। বুঝলাম চোর বাবাজী জোর করে খোলার চেষ্টা করেছিল। আলমারিটা খুলে দেখলাম প্রচুর বই র বেশিরভাগ বই জাদুর উপরে।

মমে মনে ভাবলাম চোর এমন কি খুঁজছিল এই সব বইয়ের মধ্যা?

কয়েকটা বই বার করে দেখলাম। কিছুক্ষণ দেখার পর আলমারিটা বুন্ধ করে চাবি চন্দনবাবুকে দিয়ে দিলাম।

ঘর থেকে বেরনোর সময়ে দেখি মল্লিকবাবু আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে।

ভদ্রলোক চোখ দুটো বেশ ঘোলাটে। মাঠের সব চুল পাকা আর বয়েশের ভারে কুঁজো হয়ে গেছেন।কিছুক্ষণ আমাদের পাশে দাড়িয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে চলে গেলেন।

“আপনার ঘর কোনটা?” আমি প্রশ্ন করলাম

“এই দিকে”। বলে চন্দনবাবু আমাদের তার ঘরের দিকে নিয়ে গেলেন। আমরা তার ঘরে ঢুকলাম। জিনিস বলতে তেমন কিছুই চোখে পরলনা।

“রাতে কি গেট, সদর দরজা আর মল্লিকবাবুর ঘরের দরজা কি বন্ধ থাকে?” সিঁড়ি দিয়ে আমতে আমতে জিজ্ঞেশ করলাম।

“গেট দারওয়ান বন্ধ করে আর সদর দরজা আমাদের চাকর নারায়ণ বন্ধ করে”। “ মল্লিকবাবুর ঘরের দরজা ভেজানো থাকে। বুঝতেই পারছেন অনার শরীর কিছুদিন ধরে ভাল যাচ্ছে না তাই ওটা ভেজানো থাকে”।

বাড়ির পিছন দিকে এশে পৌঁছলাম। আমরা থিক মল্লিকবাবুর ঘরের জানালার নিছে দাড়িয়ে আছি। লক্ষ্য করলাম জানালার পাশ দিয়ে একটা গাছ উঠে গেছে। কিছুক্ষণ এদিক ওদিক দেখার পর আমরা চন্দনবাবু কে নমস্কার করে বেড়িয়ে এলাম।

বিকেলে শেরপাকে নিয়ে আমি ছাদে গেলাম। একটা সিগারেট ধড়িয়ে উত্তর প্রান্তে গেলাম। এখান থেকে মল্লিকবাবুর বাড়িটা পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর শান্তনু আমার পিছনে এসে দাঁড়ালো।

“তুই এখানে আর আমি তোকে সারা বাড়ি খুঁজে বেড়াচ্ছি!” একটা চায়ের কাপ এগিয়ে দিয়ে বলল। আমি একটু অন্যমনস্ক ভাবে কাপটা নিলাম।

“কি ভাবছিস বলত?” শান্তনু প্রশ্ন করল।

একটা দীর্ঘনিশ্বাস নিয়ে আমি উত্তর দিলাম, “ ঠিক জানি না কিন্তু কোথাও যেন একটা খটকা লাগছে!”

চায়ে একটা চুমুক দিয়ে শান্তনু বলল, “কি রকম খটকা?”

“ঠিক বুঝতে পারছি না”। এই বলে আমি আবার মল্লিকবাবুর বাড়ির দিকে তাকিয়ে রইলাম।

রাতে খাওয়া শেষ করে এশে ব্যাগের থেকে ল্যাপটপ বার করলাম। কিছু প্রশ্ন মনে ঘুরে বেড়াচ্ছে তাই ভাবলাম সেইগুলি লিখে রাখি।

  • রাতে যাকে দেখেছিলাম সেই কি চোর?

  • বাড়ির ভিতরে সে প্রবেশ কি করে করলো?

  • বইয়ের আলমারিতে সে কি খুঁজছিল?

  • বাড়ির কি কেউ এই চুরির চেষ্টার সাথে জড়িত?

এই সব লিখে একটা সিগারেট ধড়িয়ে জানালার বারাদায়ে এলাম। চারিদিক নিস্তব্ধ। শুধু দূরে কুকুরের ডাক শোনা যাচ্ছে। সিগারেটটা শেষ করে এশি দেখি শেরপা ঘুমিয়ে পরেছে। আমিও ল্যাপটপটা ব্যাগের মধ্যে ধুকিয়ে আলো নিভিয়ে শুয়ে পরলাম।

পরেরদিন সকালে ঘুম ভাঙ্গার পর আমি একটু শেরপাকে নিয়ে বেরিয়েছিলাম। ফিরে এসে দেখি শান্তনু বাগানে আমার জন্য চা নিয়ে অপেক্ষা করছে।

“গুড মর্নিং!” বলে আমি একটা চেয়ার টেনে বসলাম। “ চা খেয়ে একটু বেরবো”। বাড়ি থেকে একটু দূর এগিয়েছি একটা ছেলে এশে আমার হাতে একটা কাগজ দিয়ে গেল। খুলে দেখলাম একটা ম্যাজিক শোওয়ের নিমন্ত্রম।

“ হঠাৎ বেরলি কেন বলতো?” শান্তনু প্রশ্ন করলো।

“আরে এমনি”। “একটু ঘুরতে ইচ্ছে করছিল তাই”।

আমরা হাটতে হাটতে মল্লিকদের বাড়ির পিছন দিকে এশে পরলাম। আমি থালাম না কিন্তু হাতাটা আশ্তে করে দিলাম। একটু ভালো করে এদিক ওদিক দেখতে লাগলাম। দেখতে দেখতে আমরা এগিয়ে গেলাম।

“জানিস আমার অনুমান বলছে যে চোর বাড়ির কেউ অথবা এই চুরির চেষ্টার সাথে বাড়ির কেউ জড়িত আছে!”

“তুই এটা কি করে বলছিস?” , শান্তনু প্রশ্ন করলো।

“ কারন বাড়ির দেওয়াল খুব একটা উঁচু না কিন্তু চট করে সেটা কেউ টপকাতে পারবে না”। “তাই আমার এই অনুমান আর তুই ভালো করে জানিস যে আমার অনুমান খুভ একটা ভুল হয়ে না!” একটু হেঁসে বললাম।

“তার মানে তুই এইটা দেখার জন্য হাটতে বেরিয়েছিলিশ?”

আমি কোন উত্তর দিলাম না।

পরেরদিন সকালে চন্দনবাবু ফোনে জানালেন একটা সাংঘাতিক ঘটনা ঘটেছে তাই আমরা মল্লিকদের বাড়ি পৌঁছলাম। দেখলাম চন্দনবাবু বাইরে দাড়িয়ে আছেন। বোধায়ে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন কারন আমাদের দেখে এগিয়ে এলেন।

একটা ভাজ করা কাগজ আমার হাথে দিলেন। খুলে দেখলাম তাতে লেখা আছে- “তোমার কাছে যেই জিনিশটা আছে সেটা আমি নিয়ে নেবো। সেটা তোমার না তাই তোমার সেটা রাখার অধিকার নেই”।

“ এই চিঠি কি আপনি পেয়েছেন?” আমি প্রশ্ন করলাম।

“ আজ্ঞে না”।“ এটা রাধামোহনবাবুর ঘর থেকে পাওয়া গেছে”।

“আপনি পেয়েছেন?”

“হ্যাঁ”। “ মল্লিকবাবুকে ডাকতে গিয়ে দরজা খুলে দেখি সামনে পরে আছে”।

“ এই চিঠিতে যে “জিনিসজের” কথা লেখা আছে সেট কি আপনি জানেন?”

চন্দনবাবু মাথা নেড়ে না বলল।

কিছুক্ষণ সবাই চুপ। আমি চন্দনবাবুর দিকে তাকিয়ে বললাম, “আমাকে মল্লিকবাবুদের একটা বংশতালিকা দিতে পারবেন?”

“থিক আছে। বিকেলের মধ্যে পেয়ে যাবেন”।

আমরা নমস্কার করে বেড়িয়ে গেলাম। বাড়ি যেতে যেতে বললাম, “ এই চুরি আর চিঠির সাথে বাড়ির কেউ নিশ্চয়ই জড়িয়ে আছে”।“কিন্তু প্রশ্ন হল সেটা কে আর সে কি চায়ে?”

বাড়ি ফেরার সময়ে দেখলাম রাশ্তার এক পারে অনেক মানুষের ভিড় তার মধ্যে কচি-কাচাদের সংখ্যা বেশি। কৌতহল বসতো আমরাও এগিয়ে গেলাম। দেখলাম একটা ছেলে হাতের খেলা দেখাচ্ছে যাকে আমরা ম্যাজিক বলে থাকি। কিছুক্ষণ দেখার পর আমরা বাড়ির দিকে এগিয়ে গেলাম। বাড়ি পৌঁছে ল্যাপটপটা বার করে লিখতে শুরু করলাম।

  • চিঠিটা কে লিখতে পারে?

  • চিঠিতে যে “জিনিস” এর কথা লেখা আছে সেটা কি হতে?

  • সদর দরজা রাতে বন্ধ থাকলে চিঠি ঘর অবধি গেলো কি করে?

বিকেল বেলা আমি নিজে চলে গেলাম চন্দনবাবুর কাছে মল্লিকদের বংশতালিকা আনতে। মল্লিকদের বাড়ি যেতে গেলে যে মাঠ পরে সেখানে দেখলাম খুভ তোরজোড় চলছে। বুঝতে পারলাম যে এই তোরজোড় ম্যাজিকে জন্য। রাশ্তায়ে চন্দনবাবুর সাথে দেখা হয়ে গেলো। তিনি নাকি নিজেই আসছিলেন বংশতালিকাটা দিতে। আমি তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাড়ি ফিরে এলাম। ফিরে শুনি শান্তনু একটু বেড়িয়েছে তাই আমি গোবিন্দকে এক কাপ চা দিতে বললাম নিজের ঘরে।

আমি চা খেতে খেতে খুভ মন দিয়ে বংশতালিকাটা দেখতে লাগলাম। বুঝলাম যে রাধামোহন মল্লিকের বংশে তিন পুরুশ ধরে জাদুকর ছিলেন এবং বেশ নাম ডাক ছিল। এর মধ্যে কখন যে শান্তনু এশে গেছে সেটা আমি লক্ষ্য করিনি।

“এতো মনোযোগ দিয়ে কি দেখছিশ?” শান্তনু জিজ্ঞেশ করল।

আমি বংশতালিকাটা এগিয়ে দিলাম। দেখার পর আমার দিকে ফেরত দেবার সময়ে আমি ওকে একটা কথা বললাম।

“নিচে যেখানে গল করা আছে সেটা দেখেছিশ?”

“হ্যাঁ কিন্তু কিসের জন্য গল করা আছে?”

“নামগুলো ভাল করে দেখ!”

খুভ মনোযোগ দিয়ে দেখার পর শান্তনু বলল, “আরে সত্যি তো!” “সবার পদবী এক কিন্তু এরা কারা?”

ধোওয়া ছেরে বললাম, “খুভ সম্ভবত এরা জাদুকর মল্লিকদের সহযোগী ছিল বা ছিলেন”। এই বলতে বলতে আমি বারান্দার দিকে এগিয়ে গেলাম। “কিন্তু নতুন একটা প্রশ্ন এবার উঠছে!”

“কি সেটা?” শান্তনু জিজ্ঞেশ করল

“ যদি ওই নামগুলো মল্লিকদের অ্যাসিস্ট্যান্ট হয়ে থাকে তাহলে রাধামোহন মল্লিকের অ্যাসিস্ট্যান্ট কোথায়ে গেলো?”

আমি ভিতরে এশে ল্যাপটপ বার করে এই প্রশ্নটা লিখে রাখলাম।

পরেরদিন সকালে আমি বাগানে বশে চা খাচ্ছি এমন সময়ে শান্তনু এশে বলল, “চল! তোকে একজনের কাছে নিয়ে যাব যে বধায়ে তর মনের অন্ধকার কিছুটা হলেও কমাতে পারে”। আমরা বাইরে বেড়িয়ে একটা ভান রিক্সাতে রওনা দিলাম। যেদিকে এলাম সেইদিকে এখানে আশার পর আশিনি। যে বাড়ির সামনে এশে দাঁড়ালাম সেটা খুভ বড় না। বেল বাজাতে একজন চাকর এশে দরজা খুলে দিল। শান্তনুকে দেখে চাকর বলল, “বাবু ভিতরের ঘরে আছেন”।

আমরা ঘরের সামনে এশে দরজাতে টোকা মারলাম। একজন ভদ্রলোক এশে দরজা খুলে দিল।

“আরে আয়ে আয়ে”, বলে ভদ্রলোক শান্তনুর কাঁধে হাথ রেখে ভিতরে নিয়ে গেলেন আর আমি পিছন পিছন ঘরে প্রবেশ করলাম।

আমরা দুজনে একটা সোফাতে বসলাম আর উনি আমাদের উল্টো দিকে একটা চেয়ার টেনে বসলেন।

শান্তনু আমাদের পরিচয়ে করিয়ে দিল। ভদ্রলোকের নাম ঈশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায়ে। উনি এই অঞ্ছলের সব থেকে জ্ঞানী বেক্তি। অল্প বেশি সবার সব কিছু জানেন।

“তোমার যেন কি দরকার?” ইশরবাবু প্রশ্ন করল শান্তনুর দিকে তাকিয়ে।

“ আসলে জেঠু আমরা রাধামোহন মল্লিকের পরিবারের ব্যাপারে একটু জানতে এশেছি!”

বলার শেষ করতে করতে চা এল। আমরা নিজেরা একটা করে কাপ তুলে নিলাম।

প্রথম চুমুক দিয়ে জেঠু শুরু করল, “ জয়রাম মল্লিক ছিলেন রাধামোহন মল্লিকের দাদু। খুভ নাম করা জাদুকর। কোনদিন মঞ্ছে জাদু দেখানোর সুযোগ পাইনি কারন সেই সময়ে তো এখনকার মত পসার ছিল না। জয়রাম মল্লিকের জাদু ছিল একরকম নেশা। সে জাদু ছাড়া থাকতে পারতেন না”।

একটু থেমে জেঠু উঠে গিয়ে পিছনের টেবিল থেকে একটা পাইপ নিয়ে এলেন। সেটা ধড়িয়ে আবার শুরু করলেন।

“জয়রাম মল্লিকের একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট ছিল”। একটু ভেবে জেঠু বলল, “ যতদূর মনে পরছে নাম বোধায়ে পরিতশ……পরিতশ বাগুই। কোনভাবে তার হাথে এমন একটা জিনিস আশে যেটা খুভ মূল্যবান……”

আমি থামিয়ে জিজ্ঞেশ করলাম, “সেটা কি আপনি কি জানেন?”

জেঠু মাথা নেড়ে বুঝিয়ে দিলেন যে তিনি জানেন না সেটা কি জিনিস।

“তার মানে সেই জিনিশটা কি সেটা জানতে হলে মল্লিকদের বাড়িতে আবার যেতে হবে!” “ আচ্ছা জেঠু জয়রাম মল্লিকের ছেলেও তো জাদু দেখাতো তাই না?” আমি প্রশ্ন করলাম।

জেঠু বলল, “হ্যাঁ”। একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে আবার শুরু করলেন, “সে বাবার মতো ওত ভাল দেখাতো না কিন্তু তাতে তার নামডাকে প্রভাব ফেলেনি”।

“সেটা কি করে?” আমি প্রশ্ন করলাম

পাইপে একটা টান দিয়ে জেঠু উত্তর দিল, “ তার অ্যাসিস্ট্যান্ট ছিল সে পরিতশ বাগুইর ছেলে সন্তোষ বাগুই। তার জাদুতে হাথ খুভ ভাল ছিল”।

“তার অ্যাসিস্ট্যান্ট নাম ভাঙিয়ে মালিক খেতে লাগলো”।“ আচ্ছা জয়রাম মল্লিকের ছেলের নাম কি ছিল?”

“মনিমহন মল্লিক”, জেঠু বলল।

কথা শেষ আমরা বেড়িয়ে এলাম। সাড়া রাশ্তায়ে আমি কোন কথা বললাম। সুধু মাথায়ে ঘুরছে যে সেই মূল্যবান জিনিশ্তা কি আর কোথায়ে?

বিকেল বেলায়ে আমি নিজে একটু বেরলাম শেরপাকে নিয়ে। বাড়ির পিছন দিকের মাথে দেখলাম প্রচুর লোক জমা হচ্ছে কারন আজ যে এখানে জাদুর আসর বসছে। আমি মাঠটা ছাড়িয়ে আর এগিয়ে গেলাম। বাড়ি ফেরার সময়ে দেখলাম চন্দনবাবু একটা বাচ্চা চেলের সাথে কথা বলছে। একটু সামনে গিয়ে আড়াল থেকে দেখলাম যে যার সাথে কথা বলছে সে একজন বামুন। আমার যেন কেমন একটা খটকা লাগলো। ওখান থেকে বেড়িয়ে দেখি শান্তনুকে। আমি এগিয়ে গিয়ে আশ্তে আশ্তে জিজ্ঞেশ করলাম, “ কিরে জাদু দেখতে এসেছিস?”

একটু চমকে গিয়ে উত্তর দিল, “ কি আর করব? তুই তো কাউকে না বলে বেড়িয়ে গেলি তাই আমি ভাবলাম আমিও একটু ঘুরে আশি তাই”। এই বলে আমরা দুজনে দুটো ভাল জায়েগা দেখে বশে পরলাম। কিছুক্ষণ পরে দেখালাম সেই বামুন ম্যাজিক দেখাল আর বেশ ভাল দেখাল। অনেক দিন বেশ ভাল জাদু দেখলাম। এই বলতে বলতে আমরা বাড়ি ফিরলাম। রাতে খাবার সময়ে শান্তনু জিজ্ঞেশ করল, “বিকেলে কোথায়ে গিয়েছিলিশ?”

“একটু এদিক ওদিক ঘুরতে গিয়েছিলাম!”

খাওয়া শেষ করে বারান্দায়ে এশে একটা সিগারেট ধরলাম। “কি ভাবছিশ বলতো এতো?” শান্তনু প্রশ্ন করল। আমি একটা টান দিয়ে বললাম, “একটা ব্যাপারে কেমন লাগছে!” “ আজকে জাদু শুরু হবার আগে বামুন জাদুকরটা চন্দনবাবুরকে বেশ শাসিয়ে কথা বলছিল কিন্তু কি বলছিল সেটা ঠিক শুনতে পারলাম না”। এই বলে আমি ঘরে ঢুকলাম। চোখ পড়লো কাঠে রাখা ভাঁজ করা একটা কাজগের উপর। হাথে নিয়ে সেটা খুলে দেখলাম। সেটা পরে ঠোঁটের কনে একটা ছোটো হাঁসি হেঁসে সেটা আবার ভাঁজ করে রেখে দিলাম।

সকালে কাউকে কিছু না বলে আমি বেড়িয়ে গেলাম। প্রথমে গেলাম “পল্লিশ্রী ক্লাব”। এরা গতকাল ম্যাজিক শোটার আয়োজন করেছিল। দেখালাম ক্লাবের সেক্রেটারি আছে। তার সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বললাম। বেড়িয়ে এশে প্রথমে এক কাপ চা খেলাম। তারপর গেলাম একটা ঠিকানায়ে। ওখানে পৌঁছে দেখলাম গেটে তালা ঝুলছে। আশাপাশে লোকজনদের কিছু জিজ্ঞেশাবাদ করলাম। বাড়ি ফিরতে ফিরতে দুপুর হয়ে গেল। শান্তনুর সাথে খাবার টেবিলে দেখা। কোন কথা হল না।

আজ আকাশটা এক্তু মেঘলা তাই খাওয়া শেষ করে আমরা ছাদে গেলাম। দুজনে একটা করে সিগারেট ধড়িয়ে পূর্ব দিকে গিয়ে দাঁড়ালাম। এখান থেকে মল্লিকবাড়ি দেখা যাচ্ছে।

“কি ভাবছিস বলতো?” শান্তনু প্রশ্ন করলো।

“ আমার মনে হয়ে ওই জিনিশটা অই বাড়িতেই আছে আর অতা পেয়ে গেলে বধায়ে রহস্যর সমাধান হয়ে যাবে!” একটা ধোঁওয়ার রিং ছেরে বললাম। “আজ আর একবার ওই বাড়ি যাব ভাবছি”।

সন্ধ্যের দিকে হাল্কা হাল্কা বৃষ্টি নামলো কিন্তু কথা মতো মল্লিকবাড়ি বাড়ি গিয়ে হাজির হলাম। বেল বাজাতে একজন চাকর এশে দরজা খুলে দিল। পিছনে দেখলাম চন্দনবাবু দাড়িয়ে আছেন।

“কথাও বেরচ্ছিলেন?” আমি জিজ্ঞেশ করলাম

“হ্যাঁ…মানে ওই আর কি একটু কাজ ছিল কিন্তু আপনারা সেই সময়ে?” একটু ইতস্তত ভাবে প্রশ্ন করলেন চন্দনবাবু।

“আর একবার একটু মল্লিকবাবুর ঘরটা দেখবো কিন্তু তাতে আপনার বেরোনো আটকাব না”। এই বলতে বলতে আমরা সিঁড়ি দিয়ে উঠে মল্লিকবাবুর ঘরে ঢুকলাম। ঘড়ে ঢুকে আমি প্রথমে তার আলমারিটা খুললাম। কয়েকটা বই বার করে কাঠে রাখলাম। জানলা দিয়ে দেখলাম দূরে চন্দনবাবু কারুর সাথে কথা বলছে। আমি শান্তনুকে সেটা বললাম। সে জানলার কাছে গিয়ে দেখার চেষ্টা করলো কিন্তু সেও বুঝতে পারলো না কারন সেই মানুষটা থিক চন্দনবাবুর সামনে দাড়িয়ে ছিল আর জানলাটা থিক তাদের পিছনে। আমি উঠে গিয়ে একটা পেন আর পেপার নিলাম। বইগুলোতে কিছু পাতায়ে মারকিং করা ছিল আর আমি ঠিক সেই পাতাগুলো থেকে কিছু লিখতে লাগলাম। এর মধ্যে চন্দনবাবুর ঘড়ে ঢুকলেন।

“আমি যদি এই বইগুলো আজ রাতের জন্য নিয়ে যাই আশা করি কোন অসুভিধে হবে না!”

“আরে না না!” বলে উত্তর দিলেন চন্দনবাবু।

বাড়ি ফিরে আমি বইগুলো ভালো করে দেখতে লাগলাম। খাওয়া শেষ করে শান্তনু জিজ্ঞেশ করলো, “তুই বইগুলো আনলি কেন?”

“এতে রহশ্য লুকিয়ে আছে,” আমি বললাম। আমি কিছুক্ষণ পর ল্যাপটপটা বার করে কাজ শুরু করলাম। কিছু কুকুরের আওয়াজে আমার মনঃসংযোগটা ভেঙ্গে গেল। গড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম একটা বাজে। একটা সিগারেট ধড়িয়ে বারান্দায়ে গিয়ে দাঁড়ালাম। সিগারেটটা শেষ করে এশে দেখলাম মতামতই আমার কাজও শেষ হয়ে গেছে তাই ল্যাপটপ আর ঘরের লাইট বন্ধ করে শুতে গেলাম।

পরেদিন সকালে আমি বাগানে বশে চা খাচ্ছি এমন সময়ে নকুল মানে শান্তনুর বাড়ির চাকর এশে আমাকে বলল যে কেউ আমার সাথে দেখা করতে এশেছে। আমি কাপটা রেখে গেটের দিকে এগিয়ে গেলাম। ফিরে এশে দেখি শান্তনু বশে আছে।

“কে এশেছিল?” শান্তনু জিজ্ঞেশ করলো।

আমি কথাটা তেমন গুরত্ত না দিয়ে বললাম, “তুই ঠিক বাড়টার সময়ে রেডি থাকিস, ইনস্পেক্টর রায়ে আসবে আর তার সাথে মল্লিকবাড়ি চলে যাবি!”

“আর তুই?” জিজ্ঞেশ করলো শান্তনু।

“আমি ঠিক সময়ে ঠিক জায়েগাতে পৌঁছে যাব”। এই বলে আমি বেড়িয়ে গেলাম।

আমি ঠিক বাড়টার সময়ে একজন আগন্তুককে নিয়ে মল্লিকবাবুর বাড়ি পৌঁছে গেলেম। সদর দরজার বাইরে দেখলাম শান্তনু আর ইনস্পেক্টর রায়ে দাড়িয়ে আছে।

“ আপনাকে যাকে আনতে বলেছিলাম তাকে কি আপনি এনেছেন?” আমি জিজ্ঞেশ করলেম ইন্সপেক্টরকে। মাথা নেড়ে বুঝিয়ে দিলো যে সে এনেছে। আমি বাড়ির ভিতরে ঢুকলাম। নিচের বৈঠকখানায়ে চন্দনবাবু রাধামহনবাবু বশে আছেন। এক কোনে দুজন চাকর আর একজন মালি দাড়িয়ে আছে। আমি তাদের উল্টো দিকে একটা চেয়ার টেনে বসলাম। আমর পিছন পিছন শান্তনু আর ইন্সপেক্টর ঘরে ঢুকল। আমার সঙ্গে অপরিচিত বেক্তিকে দেখে চন্দনবাবু কেমন যেন ঘাবড়ে গেলেন আর চেয়ার ছেরে উঠে পরলেন।

“আরে আরে কোথায়ে যাচ্ছেন?” আমি বলে উঠলাম।

“না মানে একটু……”। চন্দনবাবুকে থামিয়ে আমি বললাম, “ বসুন! পরে যাবেন”। কথাটা শুনে চন্দনবাবু চুপ করে আবার বসে পড়লেন।

কিছুক্ষণ ঘর পুরো চুপ। ঘড়িতে ঠিক যখন একটা বাজলো আমি শুরু করলাম।

“প্রথমে আমি সবার কাছে মার্জনা চেয়ে নিচ্ছি। আমি কোন গোয়েন্দা বা পুলিশ নই। ঘটনাচক্রে আমি নিজে থেকে জড়িয়ে যাই”।

এবার চন্দনবাবুর দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলাম, “আচ্ছা চনদনবাবু আপনি এই বাড়িতে অনেক দিন আছেন তা বলতে পারেন যে এই বাড়িতে কোন শয়নকক্ষ আছে কি?”

প্রশ্নটা চন্দনবাবু আশা করেননি সেটা তার মুখ দেখে বুঝতে অসুবিধে হোল না।

“ঠিক আছে আপনাকে বলতে হবে না। আমই বলে দিচ্ছি। যদি আমার আনুমান ঠিক হয়ে তাহলে এই ঘরের পিছন দিকে জেই ঘরটা আছে সেটাই হোল এককালে মল্লিকদের জমিদারী আমলে শয়নকক্ষ ছিল আর সেই ঘরেই অই মূল্যবান জিনিশটা আছে”। পুরো কথাটা শুনে চন্দনবাবুর মুখের রং উড়ে গেল। এই বলে আমরা সবাই সেই ঘরের দিকে এগিয়ে গেলাম। ঘরের সামনে পৌঁছানর পর আমই চন্দনবাবুর দিকে হাথ বাড়ালাম। চন্দনবাবু জামার পকেট থেকে চাবির গুচ্ছটা বাড় করে আমার হাথে দিলেন। তালা খুলে ঘরে ঢুকলাম। বিশাল বড় ঘড়। একটা বড় খাট আছে, কিছু পুরনো আলমারি আছে। আমি, শান্তনু আর ইন্সপেক্টর ছড়িয়ে গেলাম ঘরের ভিতরে সেই মূল্যবান জিনিশটা খুঁজে বাড় করার জন্য। বেশ কিছুক্ষণ খোঁজার পর আমার চোখ গেল খাটের একটা পায়ার দিকে। দেখলাম নিছের দিকে একটা স্ক্রু যাতিও জিনিস। নিছু হয়ে সেটা খোলার চেষ্টা করলাম। সেটা খুলে আমার হাথে ছলে এলো আর তার সাথে পায়ার একটা অংশ। দেখলাম ভিতরে একটা গর্ত। সেটার ভিতরে হাথ ধুকালাম। ভিতরে কিছু একটা হাথে লাগলো। বাড় করে দেখলাম কিছু একটা কাজগে মরানো। খুলে আমি যেটা দেখলাম সেটা মনে হয়ে না খুভ বেশি মানুশ দেখেছে। একটা কালো রঙের রাধা কৃষ্ণ র মূর্তি। এই রকম মূর্তি আমি কোনোদিন দেখিনি। বাকিরা ঠিক আমার মতো দেখে আশ্চর্য। আমরা সেটা নিয়ে আবার বৈঠকখানায়ে ফিরলাম। মূর্তিটা দেখে মল্লিকবাবুর চোখ দিয়ে জল ঝড়ে পরতে লাগলো। মূর্তিটা আমি মাঝখানের টেবিলের উপর রেখে একটু জল খেলাম।

আগন্তুকের কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম। “চন্দনবাবু আশা করি আপনি জানেন এনি কে?” আমি প্রশ্ন করলাম। দেখলাম চন্দনবাবু মাথা নেড়ে বুঝিয়ে দিলেন যে সে জানেন অপরিছিত বেক্তিকে। “বাঃ! জানতে পেরে ভাল লাগলো যে আমি এনাকে ছেনেন কিন্তু আমি বলছি উনি কে। ওনার নাম রতনলাল মল্লিক, রাধামহন মল্লিকের ছেলে”।কথাটা শুনে শান্তনু আর ইন্সপেক্টর বেশ আশ্চর্য হোল আর এতা আশ্চর্য হবারই কথা কিন্তু আর বাকি আছে।

“আমি মল্লিকবাবুর ছেলে ব্যাপারে জানতে এই বাড়ির এক পুরনো চাকরের কাছ থেকে”।“ভদ্রেশ্বর কাকু আপনি ভিতরে আশুন!” এই শুনে একজন বেশ বয়েশক মানুষ ঘরের ভিতরে প্রবেশ করলেন। “আগের মাসে চন্দনবাবু তাকে তাড়িয়ে দেন এই বলে যে সে নাকি মল্লিকবাবুকে খনের চেষ্টা করেছিলেন বেশী ঘুমের ওষুধ দিয়ে। এই কথা আমি জানতে পেরেছি পাড়ার লোকদের জিজ্ঞেশ করে”।“আমি যদি কোথাও ভুল বলি তাহলে আমাকে শূদ্রে দেবেন চন্দনবাবু”।

এবার আমি রতনলালের দিকে এগলাম। “আচ্ছা রতনলালবাবু আমি এতক্ষণ যাকে চন্দনবাবু বলছি সেকি আদও চন্দন বিশ্বাস মানে আপনার বাবার ম্যানেজার?”

প্রশ্নটা শুনে বাকি সবাই অবাক সেটা বাকিদের মুখ দেখে বেশ ভাল করে বুঝতে পারলাম।

“না” উত্তর দিল রতনলাল।

“ধন্যবাদ!” আমি বললাম। “আর কিছু বলতে বলতে হবে না আপনাকে কারন এবার আশা করি নকল চন্দনবাবু তার পরিচয়ে আমাদের জানাবেন”। এই বলে আমি চুপ করে গেলাম।

এতক্ষণ নকল চন্দন বিশ্বাস মাথা নিচু করে সব শুনছিল। উনি মাথা তুলে বললেন, “ আমি জিবতশ বাগুই! সন্তোষ বাগুইর ছেলে”। আমার ইশারাতে ইন্সপেক্টর ওপর একজনকে ঘরে আনল। যে ঘরে ঢুকল সে হল সেই বামুন জাদুকর।

বামুন জাদুকরের দিকে তাকিয়ে বললেন, “ও হল আমার ছোট ভাই মনোতোষ বাগুই। বাবা মারা জাবার সময়ে আমাদের ওই মূর্তিটার কথা বলে যান তখন আমরা ঠিক করি ওটা ফেরত নেব আর সেটার জন্য মনোতোষ জাদু শেখে”। এই বলে জিবতোষ বাবু চুপ করে গেলেন।

কিছুক্ষণ ঘর আবার চুপ।“ আমার মনে হয়ে যে রাধামহন বাবুর আপনাকে চিন্তে পেরেছিলেন কিন্তু আপনাদের ভয়ে আর কাকে বলবেন সেটা ভেবে উনি চুপ করে যান”। “সব কথা বললেন কিন্তু এটা বললেন না আসল চন্দনবাবুর লাশটা কোথায়ে?” কথাটা শুনে জিবতোষ আঙুল দেখিয়ে দিলেন সেটা বাড়ির পিছনে পোতা আছে।

“আপনারা ভাবছেন আমি কি করে জানলাম যে বামুন জাদুকর জিবতোষ বাবুর ভাই?” এটা বলে আমি পকেট থেকে সেই ভাঁজ করা কাজগতা বাড় করলাম আর সেটা খুলে শান্তনুর হাথে দিয়ে বললাম, “কাজগের নিচে জাদুকরের নাম লেখা আছে সেটা বল!”

“জাদুকর মনতোষ বাগুই”, শান্তনু বলল।

“তার মানে জবতোষ আপনাদের প্লান ভালই ছিল কিন্তু পল্লিশ্রী ক্লাবের সাহায্যে সেটা মাঠে মাড়া গেল!”

“কিন্তু মূর্তিটা তো আমাদের প্রাপ্য সেটা কেউ অস্বীকার করতে পাড়বে না,” চেঁচিয়ে বললেন জিবতোষবাবু।

আমি বললাম, “ঠিক বলছেন কিন্তু রাস্তাটা ঠিক ছিল না!” “সবাইকে একটা কথা জানাতে চাই সেটা হল এই মূর্তি যে পাথরের তৈরি সেটা কোন যাতা পাথর নই। এই পাথর হোল কশ্তি পাথর। অতন্ত দুষ্প্রাপ্য পাথর”। এই বলে আমি আমার কথা শেষ করলাম। শেষ করার সাথে সাথে রাধামহন বাবু এশে আমাকে জড়িয়ে ধড়ে “ধন্যবাদ” বললেন।

বিকেলে আমি শান্তনুর বাড়ির বাগানে বশে চা খাচ্ছি। শান্তনু এশে পাশে বশে জিজ্ঞেশ করলো, “তুই মল্লিকবাবুর পুরনো চাকর আর তার ছেলের খবর কোথা থেকে পেলি?”

আমি একটা চুমুক দিয়ে বললাম, “কৃতিত্ব তোর চাকর গোপালের”। “ওই আমাকে ভদ্রেশস্বরের খোঁজ দায়ে আর সে আমাকে মল্লিকবাবুর ছেলের কথা বলেন”। এই বলে আমি ওর দিকে তাকিয়ে একটা চোখ মারলাম।

……এই দেখুন আমি আপনাদের আমার কেসের গল্পটা শোনালাম কিন্তু আশল কথাটাই বলা হয়েনি সেটা হোল আমার নাম রুদ্রশেখর দাসগুপ্ত।

 

~ কৃষ্ণ লীলা ~

LEAVE A REPLY

*