ভারতবর্ষে বায়ুদূষণে প্রথম দশটি শহরের মধ্যে শীর্ষস্থান দখল করে নিয়েছে দিল্লি । বারাণসী , নয়ডা , গাজিয়াবাদ , আগ্রা শীর্ষস্থান দখল করার প্রতিযােগিতায় অংশগ্রহণ করেছে । এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স অনুযায়ী এই শহরগুলি রয়েছে ৪৫০ – ৫০০র মধ্যে । অথচ শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে ইনডেক্স ১০০ – র বেশি হওয়া উচিত নয় । দিল্লিতে ধোঁয়াশায় আচ্ছন্ন সকালে দৃশ্যমানতা ৪০ মিটারে । নেমে আসে । তখন ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয় । বহু ট্রেন অত্যন্ত দেরীতে চলে , অনেক ট্রেন বাতিল করে দেওয়া হয় , উত্তর ভারতের বহু অংশে ট্রেনের যাত্রাপথ পরিবর্তন করতে হয় । বায়ুর ভয়াবহ দূষণের জন্য স্কুল বন্ধ রাখতে হয় , যাতে ছােট ছােট ছেলেমেয়েরা বাড়ির বাইরে বেরােতে না পারে বাতাসে ভাসা । বিশেষ কণিকাগুলি ঘনবদ্ধ হয়ে টক্সিক মাত্রায় পৌছে যায় বলে । শ্বাসকষ্ট হয় , এর ফলে ছােটরা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে । দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য যানবাহন চলাচলের বিশেষ সুচির প্রবর্তন করতে হয়েছে দিল্লির সরকারকে । গাড়ির নম্বরের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে ‘ জোড় ’ ও ‘ বিজোড় নম্বরের ফর্মুলা । একদিন ‘ জোড় ‘ নম্বরের গাড়িগুলি পথে নামবে , অন্যদিন ‘ বিজোড় ’ নম্বরের গাড়িগুলি সেই সুযােগ পাবে অবশ্য দু – চাকার । গাড়িগুলিকে এই নিয়ন্ত্রণের বাইরে রাখা হয়েছে এই সুচি । প্রবর্তন করেও দূষণের মাত্রায় বিশেষ হেরফের ঘটানাে সম্ভব হয়নি । তাই ভাবা হয়েছে ডিজেল চালিত গাড়িগুলি পনের । বছরের পুরনাে হলে পথে চালানাের অনুমতি দেওয়া হবে না ।

ডিজেল চালিত গাড়িগুলি থেকে যে কালাে ধোঁয়া নির্গত । হয় , তাতে বায়ু দূষণের মাত্রা অত্যন্ত অস্বাভাবিক বেড়ে যায় । মাঠে পরিত্যক্ত ফসলের অংশ পােড়ায় কৃষকেরা , বায়ু দূষণের সেটাও অন্যতম কারণ । দেওয়ালির সময় বাজি পােড়ানাে হয় ,তাতেও দূষণ বেড়ে যায় বলে দিল্লির সরকার ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্যদ তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে প্রতি বছর । সেই নির্দেশকে অমান্য করে বাজি পােড়ানাের উৎসবে অংশগ্রহণে মেতে ওঠে সাধারণ মানুষ । যে দূষণ জীবনকে বিপন্ন করে , শাসকষ্টজনিত রােগে আক্রান্ত হয় মানুষ , সে সম্পর্কে সচেতন হওয়ার প্রয়াসে যদি গাফিলতি থাকে , তবে মানুষকেই ভুগতে হয় । কয়েক ঘণ্টার আনন্দ উপভােগ করতে সারা জীবন ধরে যদি অসুস্থতাকে বরণ করে নিতে আগ্রহী হয়ে ওঠে মানুষ তাহলে । কোন আইনের সাহায্যে দূষণকে কিছুতেই প্রতিরােধ করতে । পারবে না সরকার ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ ।

দিল্লিতে দূষণের শিকার হয়েছিল ভারত ও শ্রীলঙ্কার । ক্রিকেট খেলােয়াড়রা । ফিরােজ শা কোটলা – তে অনুষ্ঠিত দু – দেশের টেস্ট ম্যাচে দেখা গেছে খেলােয়াড়রা শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ার জন্য ঠিকমতাে খেলতে পারছিলেন না । শ্রীলঙ্কার একজন খেলােয়াড়কে বমি করতে হয়েছে । একদিন তাে কুড়ি মিনিট খেলা বন্ধ রাখতেও হয়েছিল । এমন ভয়াবহ দূষণের মধ্যে খেলতে শ্রীলঙ্কার খেলােয়াড়রা আপত্তি জানিয়েছিলেন । কিন্তু খেলা পরিত্যক্ত ঘােষণা করতে হয়নি । অবশ্য আলােচনা হয়েছিল , দূষণের মাত্রা কী পরিমাণ থাকলে খেলােয়াড়দের পক্ষে খেলতে কোনাে অসুবিধা হবে না । সে ব্যাপারে স্পষ্ট কোনাে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি , যদিও দূষণ নিয়ে আবার ভাবনাচিন্তা করার মনােভাব প্রকাশ পেয়েছে ।

দূষণের সমস্যা নিয়ে বিব্রত সারা পৃথিবী । দূষণের সৃষ্টি হয়েছে মূলত গ্রীন হাউস গ্যাস বাতাসে ছাড়ার জন্য । জলবায়ু দুষিত করার জন্য ও উত্তাপ বাড়ানাের জন্য দায়ী শিল্পোন্নত দেশগুলি । গ্রীন হাউস গ্যাস বাতাসে ছাড়াতে প্রথম স্থান দখল করে আছে আমেরিকা ও দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চীন । চীনে বায়দুষণ এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে বেজিং – এর আকাশ ধোয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকে । সুর্যের আলাে ঠিকভাবে মাটিতে এসে হলে পেীছাতে পারে না । তাই বেজিং অলিম্পিকের আগে সেই । ধোঁয়ার আস্তরণ আকাশ থেকে সরাতে চান সরকারকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়েছিল । বেজিং – এর আশেপাশে যত বড় বড় কারখানা ছিল সেগুলি বন্ধ করে অন্যত্র সরিয়ে দিতে হয়েছিল ।

জলবায়ুর পরিবর্তন রােধ করতে ও দূষণকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ‘ লাে কার্বন ’ নীতি গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরী । কয়েক বছর আগে কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত ১৯২ দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে জলবায়ু বিষয়ে এক আলােচনা চক্রে এই কথা বলেছিলেন ভারতের প্রতিনিধি জয়রাম । ২০০৫ সালের তুলনায় ২০২০ সালের মধ্যে আমরা ২০ – ২৫ শতাংশ গ্রীন হাউস গ্যাস ছাড়ার পরিমাণ কমাবাে । সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে ভারত কতটা সফল হয়েছে , তা অবশ্য এই মুহুর্তে বলা সম্ভব হচ্ছে না । কিন্তু কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্যদ তাদের ভূমিকা পালনে সক্রিয় হয়ে উঠেছে । ভারতে অধিকাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলিতে কয়লা ব্যবহার করা হয় । তার ফলে কোল – আশ ও কেন্দ্র থেকে নির্গত ধোয়ায় । যে কার্বন থাকে , তাতে বায়ু দূষণের পরিমাণ বাড়ে । সেই কারণে অচিরাচরিত প্রথায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে বেশি নজর দেওয়া হয়েছে । সৌরবিদ্যুৎ , বায়ু – বিদ্যুৎ ও জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যাপক প্রচেষ্টা চলছে । পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে । কিন্তু রাশিয়া ও জাপানে পরমাণু – বিদ্যুৎ উৎপাদন । কেন্দ্রে যে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে , তার ফলে জনজীবনের নিরাপত্তা যেমন বিপন্ন হয়ে পড়েছে , তেমনি বাতাসে । তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব অনেক বেশি দূষণের সৃষ্টি করেছে । তাই পরমাণু – বিদ্যুৎ নির্মাণ কেন্দ্র ঘিরে আতঙ্কিত মানুষের বিক্ষোভ যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ।
তাছাড়া তৈল শােধনাগার থেকে নির্গত বাপ দূষণের সৃষ্টি করে । সেই দূষণে আক্রান্ত হয়েছে আগ্রার তাজমহল সাদ । পাথরের গায়ে কালাে কালাে দাগ সৌন্দর্যকে নষ্ট করে দিয়েছে । দূষণ নিয়ন্ত্রণ করার যে উপায় অবলম্বন করা হয়েছে , তাতেও দূষণ কমানাে সম্ভব হয়নি । তৈল শােধনাগার বন্ধ করে দিলে দূষণের মাত্রা কমবে , কিন্তু অর্থনৈতিক কারণে সে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়তাে সম্ভব হবে না ।

শহর কলকাতাও দূষণে আক্রান্ত । এই ডিসেম্বর মাস শেষ হতে চললেও শীতের দেখা নেই । শুধু নিম্নচাপ , খুণাবর্ত ও দুর্বল উত্তরের হাওয়াকে দোষী সাব্যস্ত করতে চান না পরিবেশবিদরা , তাদের মতে মাত্রাছাড়া বায়ুদূষণের জন্য শহরের পারল নামতে বাধা পাচ্ছে । গ্রামাঞ্চলে দূষণের মাত্রা কম থাকায় সেখানে শীতের অনুভূতি বেশি । ভােরের দিকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় যে প্রবল ধোঁয়াশা তৈরি হচ্ছে তার জন্য বায়ুদূষণকে দায়ী করছেন পরিবেশবিদরা । তারা অভিযােগ করেছেন , ডিজেলচালিত গাড়ির ধোঁয়া ও নির্মাণকাজের ধুলােই দূষণ বাড়াচ্ছে । এক পরিবেশ বিজ্ঞানী বলেছেন , বাতাসে কার্বণ কণা ও ধুলাের জন্য মাটি থেকে তাপ পুরােপুরি বিকিরিত হতে পারছে না । কার্বন কণার তাপশােষণ ক্ষমতা বেশি হওয়ায় তা তাপ শুষে নিচ্ছে । ফলে বাতাসে গরম ভাব থাকছে । একেই ‘ গ্রীণ হাউস এফেক্ট ‘ বলেছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সুব্রত মিদ্যা । যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ রায়চৌধুরীও বলেছেন , বায়ুতে বাড়তি কার্বনের ফলে গােটা বিশ্ব উষ্ণ হয়ে উঠছে । কলকাতার ক্ষেত্রেও সেই ঘটনা ঘটছে । এটা চলতে থাকলে জলবায়ু বদলে যাবে । ।
রােদ উঠলে কুয়াশা কেটে যেতে শুরু করে , কিন্তু ইদানীং শহরে যে কুয়াশা দেখা যাচ্ছে , তা সহজে কাটছে না । এই কুয়াশার রং ঠিক সাদা নয় , কালচে রঙের । কার্বন ও ধূলিকণা জলীয় বাষ্পের সঙ্গে মিশে তাকে গাঢ় করে তুলছে । ক্রমাগত তাপ শুষতে থাকায় রােদ উঠলেও জমাট বাধা জলীয় বাষ্প সহজে কাটছে না । দূষণ ক্রমশ গ্রাস করে নিচ্ছে জনজীবনকে ।

দূষণের বিরূপ প্রতিক্রিয়া নিয়ে রাষ্ট্রসংঘ সম্প্রতি এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে , দিল্লি ও অন্যান্য বড় শহরগুলি নতুন ধরনের বিষাক্ত ধোঁয়াশায় ভরে গেছে , তার প্রভাবে সৃষ্ট দূষণ যে ক্ষতি করছে তা হল শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করা ।
রাষ্ট্রসংঘের শিশুদের বিভাগ ইউনিসেফ জানিয়েছে পৃথিবীর ১ কোটি ৭০ লক্ষ এক বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে এশিয়াতে রয়েছে ১ কোটি ৬০ লক্ষেরও বেশি শিশু যারা সাংঘাতিকদূষণে আক্রান্ত অঞ্চলে বাস করে । এই দূষণ নিরাপদে থাকার মন্ত্র থেকে ৬ গুণ বেশি ।
শিশুদের পুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা দেশগুলির তালিকায় শীর্ষস্থানে রয়েছে ভারত । তারপরেই রয়েছে চীন । ইউনিসেফের এক রিপাের্টে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে ।
সারা পৃথিবীতে দূষণের মাত্রা নির্ধারণ করতে উপগ্রহ মারফত গৃহীত চিত্রের সাহায্য নেওয়া হয়েছে । তা থেকে জানা গেছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলিতে দূষণে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা ১ কোটি ২২ লক্ষ । আফ্রিকার শহরগুলিতে এই সমস্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে । বায়ুদূষণে যেসব রােগের সৃষ্টি হয়েছে , তার মধ্যে রয়েছে হাঁপানি , ব্রঙ্কাইটিস , ও শ্বাসকষ্ট জনিত অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী রােগ ।

বৈজ্ঞানিক গবেষণায় যে সত্য ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে , তা হল বায়ুদূষণ শিশুদের জীবন ও ভবিষ্যৎকে এক ঝুঁকিপূর্ণ পথে টেনে নিয়ে চলেছে , সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাদের বিকাশমান মস্তিষ্ক । রিপাের্টের উল্লেখযােগ্য অংশ হল , দুষণের সঙ্গে মস্তিষ্কের কর্মশক্তির প্রত্যক্ষ যােগাযােগ রয়েছে । বিশেষ করে ভার্বাল ও নন – ভার্বাল আইকিউ , স্মরণশক্তি ক্রমশ নিম্নগামী হয়ে পড়ছে । স্কুলে পাঠরত শিশুরা গড় পরিমাপের থেকে কম মার্কস পাচ্ছে , গ্রেড পয়েন্টও কমে যাচ্ছে । তাছাড়াও স্নায়ুসংক্রান্ত রােগের সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে । যেহেতু পৃথিবীর আরাে বেশি বেশি অংশ শহরে রূপান্তরিত হচ্ছে দূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই , তাই আগামী বছরগুলিতে শিশুদের জীবন আরাে বিপন্ন হয়ে পড়ার সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠবে । শহরের দূষণে ক্ষতিকারক সূক্ষ্ম কণার প্রাধান্য মস্তিষ্কের সঙ্গে রক্তকে পৃথক করে রাখার প্রক্রিয়ার ক্ষতি করতে পারে – এটি অত্যন্ত কোমল আবরণী চামড়া যা বিষাক্ত কণা থেকে মস্তিষ্ককে রক্ষা করে ।

এই চামড়ার ক্ষতি থেকেই বয়স্ক মানুষের শরীরে জন্ম নেয় আলজাইমার্স ও পারকিনসনস নােগের । ইউনিসেফ আরাে একটি ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে যে লৌহের চুম্বকশক্তি থেকে উদ্ভুত অতি সুক্ষ্ম কণা শহরের দূষণে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা ক্রমশ বাড়ছে । এই কণা অত্যন্ত সহজে রক্তের প্রবাহে প্রবেশ করতে পারে । এটা মস্তিষ্কের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর যেহেতু এতে রয়েছে চুম্বকশক্তি । তাছাড়া দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকা অজানা রােগের সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে । বিষাক্ত অণু প্রভাবিত দূষণ শিশুদের শেখার আগ্রহে বিরূপ কর প্রভাব ফেলে , তাদের স্মরণশক্তি , ভাষাকে আয়ত্ত করার ক্ষমতাকে ও গতিময়তার যােগ্যতাকে নষ্ট করে দেয় । উত্তর ভারতে বৃহৎ অংশ ও পাকিস্তানের কোনাে কোনাে অংশ বুদ্ধিমত্ত বাতাসে fচকে থাকার জনা পূণ – সঙ্কট তীর হয়ে পর ওঠে । চিন দেশে বাতাসে দুষণের জন্য শিল্পে এ শহরে মানুষের যা আয় প্রায় তিন নম্বর কমে গেছে । সরকার তাই ধোঁয়াশার সঙ্কট র থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য উৎপাদনের পরিমাণ কমানাের ন্য নির্দেশ দিয়েছে , কিন্তু ভারতবর্ষে এক্ষেত্রে অগ্রগতি তেমন উল্লেখযােগ্য নয় । শিশুরা যদি সুস্থ জীবন যাপন করতে সক্ষম না হয় , দুষণে । ৰ আক্রান্ত হয়ে যদি দুরারােগ্য ব্যালিতে ভোগে তাহলে সমাজ – সভ্যতার স্বাভাবিক বিকাশের পথে বিপর্যয় অবধারিত হয়ে ” উঠবে । তাই দূষণ রােধে ব্যাপক প্রতিরােধ ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরী ।

দিল্লির বাতাস দূষণমুক্ত করার প্রয়াসের প্রথম পর্বের সূচনা । হয়েছিল দু – দশক আগে । সুপ্রীম কাের্ট সরকারকে ও গাড়ি নির্মাণ । শিল্পকে বাধ্য করেছিল জ্বালানি ব্যবহার ও ধোঁয়া নির্গমনের নতুন মানদণ্ড র মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল । দ্বিতীয় পর্যায়ে নাসা উপগ্রহের ম্যাপে দেখা গেল শস্য পােড়ানাের স্থানগুলিতে অসংখ্য লাল রঙের ছােট ছােট গােল দাগ । তাই প্রচার মাধ্যমগুলির মনােযােগ চলে গিয়েছিল শহর ছেড়ে গ্রামীণ অঞ্চলগুলির দিকে । উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করার পরিবর্তে সমস্যার কারণ নির্ধারণে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল । প্রতিদিনের বিবর্ণ অবস্থা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেলেও মানুষের দুর্দশা নিয়ে সচেতনতার অভাব ছিল , দিল্লির বায়ুদূষণ নিয়ে আভ্যন্তরীণ মতবিরােধের অবসান ঘটাতে অত্যন্ত সামান্য ।উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল । দিল্লিকে দূষণের গ্রাস থেকে । • বাঁচাতে সুবিধাভােগী অভিজাত সম্প্রদায়ের মানুষদের কোনাে * ভূমিকা পালন করতে হয় না , অথচ কৃষকদের সরকারি নীতিকে মেনে খাদ্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হয় , ভূগর্ভস্থ জলের সংরক্ষণের দিকে দৃষ্টি দিতে হয় । আরাে একটি অদ্ভুত ব্যাপার , দিল্লির পরিবেশকে রক্ষা করার জন্য বারেবারে বিচারবিভাগের হস্তক্ষেপ প্রয়ােজন হয়েছে , নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কোনাে ভূমিকাই থাকে না । দিল্পির জন্য প্রয়ােজন আমূল পরিবর্তনের । নীতি – প্রয়ােজন আরাে বেশি যানবাহন বিহীন অঞ্চলের , বেসরকারি যান বিক্রির ক্ষেত্রে কর বৃদ্ধি করা , বে – আইনিভাবে । গাড়ি রাখলে কঠোর ব্যবস্থাগ্রহণ , গাড়ি কিনতে হলে গ্যারেজ থাকা বাধ্যতামূলক ।

দূষণ এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে একজন রাজনৈতিক নেতা বলতে বাধ্য হয়েছেন , দিল্লি এখন গ্যাস চেম্বারে পরিণত হয়ে গেছে , তাই সংসদের অধিবেশন দক্ষিণ ভারতে সরিয়ে নিয়ে । যাওয়া উচিত । নেতারা তাদের নিজেদের স্বার্থের কথা ভাবছেন , সাধারণ মানুষের কথা ভাববে কারা ? বায়ু দূষণের জন্য শ্বাসকষ্টজনিত অসুখ ক্রমশ বাড়ছে । ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে এমন রােগীর মৃত্যু ৪০ শতাংশ বেড়েছিল । ২০১৭ সালের মৃত্যুর সংখ্যা জানা না গেলেও পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক । নববর্ষের প্রথম দিনেই দিল্লির বায়ুদূষণ বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে । কলকাতাও পিছিয়ে নেই । রবিবার রাত ১২টা থেকে সােমবার ভাের চারটে পর্যন্ত বায়ুদূষণের সূচক ছিল যথাক্রমে ৩৩২ , ৩৩৬ , ৪০২ , ৩৯০ ও ৩৩৩ । সূচক ৩০o পেরােলেই বায়ুদূষণের মাত্রা বিপজ্জনক হিসেবেই গ্রাহ্য হয় ।

কেন্দ্রীয় সরকারকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়ােজন । বাতাসের গুণগত মানের উন্নতি ঘটাতে সব অবৈজ্ঞানিক উন্নয়ন প্রকল্প ও নির্মাণ কাজ অবিলম্বে বন্ধ করে দিতে হবে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে , লােকসভায় বলেছেন একজন কংগ্রেস – সাংসদ ।
কলকাতার বাতাসের অবস্থা দিল্লির তুলনায় ভালাে , কিন্তু চেন্নাই ও মুম্বইয়ের থেকে খারাপ । অবশ্য যেভাবে বায়ুদূষণ । বাড়ছে , তাতে এখনই ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে দিল্লির মতাে অবস্থা । হতে বেশি সময় লাগবে না । কলকাতায় বায়ুদূষণের অন্যতম উপাদান ধুলিকণা । সেটা দূর করতেই জলকামান ব্যবহার করার কথা ভাবা হচ্ছে । বছর দুই আগে চিনে বাতাসের দূষণকে নিয়ন্ত্রণে আনতে এই জলকামান ব্যবহার করা শুরু হয়েছে । দিল্লিতেও জলকামান ব্যবহার করা হয়েছে ।
যেভাবেই হােক দূষণকে নিয়ন্ত্রণ করার উদ্যোগ নিতে হবে । কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদকে , বিশেষ করে শিশুদের জন্য । প্রয়ােজন দূষণমুক্ত সবুজ – সুন্দর পরিবেশের ।

Reference by:-
Towardsdatascience, Ourworldindata 

Print Friendly, PDF & Email
0 0 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments