আজকের ডিজিটাল যুগে পৃথিবীর সব মানুষেরই প্রাথমিকভাবে জানবার একটি প্রধান মাধ্যম হয়েছে Google, সেইখানে আমরা যদি সার্চ করি ‘First Christian nation in the world’ উত্তর একটিই আসে, আর্মেনিয়া। এহেন প্রদেশের মানুষ আর্মেনীয়রা ভারতে প্রায় মোগল সম্রাট আকবরের বদান্যতায় তাঁর রাজত্বকাল থেকে বসবাস করছে (Seth 1)। তবে আর্মেনীয়রা বঙ্গদেশে প্রথম পাকাপাকিভাবে বসবাসের অনুমতি পায় মোগল সম্রাট ঔরংজেবের আমলে; সাল ১৬৬৫, স্থানঃ মুর্শিদাবাদের অন্তর্গত সৈদাবাদ (Seth 325)। বঙ্গের আর্মেনীয় সমাজ এবং তাদের অস্তিত্ব নিয়ে কিছু বলার পূর্বে যেই মানুষটির কথা না বললেই নয়, তিনি হলেন খোজা ইসরায়েল সারহাদ। এনার পরিচয় দেওয়ার জন্য প্রথমে একটি বাক্যের উল্লেখ বড় প্রয়োজন; ““If Job Charnock be the founder of Calcutta, the author of its privileges and early security is the great Armenian merchant Khojah Israel Sarhad.”(Seth 420) এবার প্রশ্ন উঠতে পারে কী রকম সুবিধার রচয়িতা? এই খোজা ইসরায়েল জব চার্নককে কলকাতা প্রতিষ্ঠা করার জন্য আইনগত সুযোগ সুবিধা প্রদানে প্রভূত সাহায্য করেছিলেন। এবং পরে ১৭১৫ তে ফারুকশিয়রের ফরমান প্রাপ্তিতেও ইংরেজদের পক্ষ নেন (Seth Preface viii)। তাই আমার ধারণা বঙ্গের আর্মেনীয়দের ব্যাপারে বলার পূর্বে এনার নাম উত্থাপন করা জরুরি। দেখা যায় এই সময়ের পর থেকেই বঙ্গদেশে যেখানে সবচেয়ে বেশি তাদের বসবাস ছিল, এবং আজও আছে তা হল কলকাতা। ১৬৬৫ থেকে বর্তমান ২০২০, প্রায় ৩৫৫ বছর ধরে বঙ্গদেশে এই ইউরোপীয় জাতিটি বাঙালীর সাথেই বসবাস করছে, ‘সাথেই’ বলার একমাত্র কারণ হচ্ছে আর্মেনীয়রা ভারত এবং বঙ্গের সমাজে, রাজনীতিতে বিভিন্ন ভূমিকা পালন করলেও তাদেরকে কখনই ঔপনিবেশিক প্রভূর চরিত্রে আমরা দেখতে পাই না। আবার একথাও জোর দিয়ে বলা যায় না যে এই আর্মেনীয়রা শুধুমাত্র তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যই করে গেছেন। একদিকে যেমন অনেক জনৈক আর্মানি বঙ্গদেশে তাদের আর্মেনীয় সমাজকে বাঁচানোর জন্য স্কুল খুলেছিলেন, চার্চ থেকে অর্থ সাহায্যের ব্যবস্থা করেছিলেন তেমনি আবার কলকাতার আর্মেনিয়ান চার্চ বিখ্যাত মুকুন্দপুরের আর.এন.টেগোর হাসপাতাল তৈরিতেও সাহায্য করেছিল (Banerjee Gupta and Mukherjee 88)। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে প্রায় সাড়ে তিনশো বছরের বেশি সময় ধরে বসবাস করা এই মানুষগুলিকে বৃহৎ বাংলা সাহিত্য কি কোথাও স্থান দেয়নি? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে প্রাপ্ত হই বেশ কিছু বাংলা সাহিত্য ও অন্যান্য গ্রন্থ যেখানে বাংলার আর্মেনীয় সমাজ এবং তাদের প্রতিষ্ঠিত ও ব্যবহার করা স্থানাদির অস্তিত্ব আছে। যেমনঃ নাট্যকার গিরিশচন্দ্র ঘোষের সিরাজদ্দৌলা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সহজ পাঠ(দ্বিতীয় ভাগ), সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের উপন্যাস শ্যাম সাহেব, মহাশ্বেতা দেবীর কিশোর উপন্যাস আরমানি চাঁপার গাছ, সুচিত্রা ভট্টাচার্যের মিতিন মাসি গোয়েন্দা সিরিজের গল্প আরাকিয়েলের হিরে এছাড়াও কালীপ্রসন্ন সিংহের হুতোম প্যাঁচার নকশা -তে, তারাপদ সাঁতরার কীর্তিবাস কলকাতা –তে উঠে এসেছে আর্মেনিয়ান ঘাটের কথা। এইসকল লেখালেখি পড়লে বোঝা যায় এই জাতিকে বাঙালি সমাজ কেবলমাত্র বণিক হিসাবেই দেখেনি, অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যেমন চিনা, পারসি, অ্যাংলো ইন্ডিয়ান, বিহারী, সিন্ধী, জিউদের মতো আর্মেনীয়ানরাও বঙ্গে থাকতে থাকতে দেখেছে এই বাংলার নানা সামাজিক, রাজনৈতিক ওঠা-পড়া, বঙ্গভঙ্গ, ভারতের স্বাধীনতা, দাঙ্গা, মহামারী প্রভৃতি এবং হয়ে উঠেছে বঙ্গবাসী। আমি আমার পত্রে উপরিউক্ত এইসকল লেখা/গ্রন্থগুলিকেই পর্যালোচনার মাধ্যমে বঙ্গের আর্মেনীয়দের অস্তিত্ব অনুসন্ধানে অগ্রসর হব।

আমরা নিশ্চয়ই হুতোম প্যাঁচার নক্সা -র ‘রেলওয়ে’ নামক পরিচ্ছেদটির জ্ঞানানন্দ ও প্রেমানন্দ বাবাজীর কথা বিস্মৃত হইনি। এনারা রেলের টিকিট কাটতে যেই স্থানে যান সেইটি হল আমাদের কলকাতার খুবই পরিচিত স্থান আর্মেনীয়ান ঘাট (সিংহ ১৭৬)। এই ঘাট সম্পর্কে আরও তথ্য উঠে আসে কীর্তিবাস কলকাতা -তে। জানা যায় একদা এই ঘাটে হাওড়া থেকে ট্রেন ধরার জন্য টিকিট বুকিংয়ের অফিস ছিল এবং এখান থেকে অগণিত মানুষ প্রত্যেকদিন হাওড়া থেকে ট্রেন ধরার উদ্দেশ্যে যাত্রা করত; হাওড়া ব্রিজ বা রবীন্দ্র সেতু তৈরি হওয়ার পূর্বে (সাঁতরা ৪৮); বর্তমানে যে স্থান কলকাতা পোর্ট ট্রাষ্টের গুদামে পরিণত হয়েছে। এই ঘাটের ইতিহাস আরও বিস্তারে ব্যক্ত করেছেন শ্রী তারাপদ সাঁতরা। এই ঘাটটি তৈরি করেছিলেন জনৈক আরমানি ম্যানুয়েল হাজারমালিয়াঁ (সাঁতরা ৭৮)। এই ঘাটটি আর্মেনীয়দের দ্বারা তাদের বাণিজ্যসূত্রে, তাদের “extensive shipping” (Seth 453) এর কারণে ব্যবহৃত হওয়ার কারণে ‘আর্মেনিয়ান ঘাট’ নামাঙ্কিত হয়ে যায়। শ্রী সাঁতরা এই ঘাটের পাশে আরও এক স্থানের নাম উল্লেখ করেছেন, বিবি রসের ঘাট, তাঁর অনুমান যেহেতু আর্মেনিয়ান ঘাটের অপর পারেই আর্মেনিয়ান গির্জা আছে এবং একসময় তাদের সাজানো বাগান, বাড়ি, ডক প্রভৃতি ছিল এবং কলকাতার প্রথম ক্রিশ্চান সমাধি(রেজাবিবি; একজন আর্মেনিয়ান মহিলা) পাওয়া যায় আর্মেনিয়ান গির্জাতে যার স্তম্ভে সাল লেখা আছে ১৬৩০ সেহেতু বিবি রসের ঘাট বোধহয় সেই রেজাবিবিরই নামাঙ্কিত হবে। বলা বাহুল্য এই সমাধির আবিষ্কার ও এই সংক্রান্ত খবর প্রথম বলেন বিখ্যাত পণ্ডিত C.R. Wilson তাঁর “Armenian founders of Calcutta” প্রবন্ধে যেটি প্রকাশিত হয়েছিল The Englishman পত্রিকায় ৩১ জানুয়ারি ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দে, দুঃখের বিষয় এই প্রবন্ধটির আমি ডিজিটাল বা হার্ড কোন কপিই জোগাড় করতে পারি নি শুধুমাত্র সেটির কিছু অংশ পড়বার সৌভাগ্য হয়েছে Mesrovb Jacob Seth ও Jawhar Sircar এর রচনার মধ্যে। যাই হোক অন্তত নাম শুনে এটি বুঝতে খুব একটা অসুবিধা হয় না যে এই আর্মেনিয়ান আসলে একজন আর্মেনিয়ানেরই সৃষ্ট। এবারে আসা যাক কলকাতার সবচেয়ে পুরনো ক্রিশ্চানদের সাধনাস্থল “The Armenian Church of Nazareth” বা কলকাতার আর্মানি গির্জার কথায়। প্রথমেই ঋণস্বীকার করি যে বাঙালীর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ছাড়া একদমই চলে না; আমারও চলল না। প্রায় আমাদের সকলের পাঠ্য ‘সহজ পাঠ’ এর দ্বিতীয় ভাগে এই গির্জার কথা উঠে আসতে দেখা যায়। অষ্টম পাঠের শুরুতেই লেখক লিখছেন “আর্মানি গির্জের কাছে আপিস। যাওয়া মুশকিল হবে। পূর্ব দিকের মেঘ ইস্পাতের মতো কালো। পশ্চিম দিকের মেঘ ঘন নীল।” (ঠাকুর ২৪) তবে বাংলা লেখনীতে এর কেবল উল্লেখই পাওয়া যায়, এই গির্জার ইতিহাসের কথা আজও ধারণ করে রেখেছে বিভিন্ন ইংরেজি লেখনীই।

গিরিশচন্দ্র ঘোষের সিরাজদ্দৌলা -তে যাওয়ার আগে একটি নাম উদ্ধৃত হওয়ার দাবী রাখে; “The Armenian Petrus”। এনার ব্যাপারে কম শব্দে আরও ভালোভাবে জানা যায় এই লাইনগুলিতে-

                                        “…there comes a name “The Armenian Petrus” Called by Robert Clive, full name Khojah Petrus Arathoon, had his contribution in the removal of Siraj-ud-Doulla and also Mir-Jaffar. Also he helped Jaffar’s son in law Mir-Qasim to get the masnad in 1760.” (Seth Preface viii)

উপরিউক্ত লাইনগুলি পড়ে এটি বোঝা শক্ত নয় যে এই খোজা পেট্রুস আরাথুন নবাব সিরাজদ্দৌলার সময় অথবা তার পূর্বে আলীবর্দি খাঁর সময় থেকে মীরকাশিমের সময় অবধি বাংলার নবাব পরিবারের সঙ্গে সংযুক্ত ছিলেন মূলত রাজনৈতিক বা বাণিজ্যিক হয়ত কিছুক্ষেত্রে পারিবারিক কারণেও। এইখানে উল্লেখ্য যে আর্মেনীয়রা বাংলার নবাব পরিবারের খুবই অন্তরঙ্গ বন্ধু ছিলেন, খোজা নিকোলাস নামে একজনের নাম পাওয়া যায় যাকে আলীবর্দি খাঁর স্ত্রী ‘ভাই’ হিসাবে সম্বোধন করতেন এবং তাঁর অন্দরমহলে প্রবেশের এবং বেগমের সাথে পর্দা ছাড়া দেখা করার অনুমতি ছিল (Seth 325)। এবারে আসা যাক ‘সিরাজদ্দৌলা’-তে। ১৯০৫ সালে প্রথম অভিনীত এই নাটকটির “হিন্দু ও মুসলমানপক্ষীয় পুরুষগণ” চরিত্রের তালিকা দেখলে একটি নাম পাওয়া যায়, ‘খোজা’। যেই চরিত্রটিকে গোটা নাটকে মাত্র একবার সামনে আসতে দেখা যায়; দ্বিতীয় অঙ্কের তৃতীয় গর্ভাঙ্কে, লুৎফাউন্নেসার প্রতি একটিমাত্র সংলাপ নিয়ে। এতবড় নাটকে এত ছোট একটি চরিত্রটি যে একজন আর্মেনিয়ান সেই নিয়ে আমার প্রথমত আমার সংশয় শুরু হয় এই চরিত্রটির নামকরণ থেকে। নাট্যকার তো এত ছোট একটি চরিত্রকে ‘পুরুষ ১’ বা ‘খানসামা’ বা ‘সেপাই’ বা ‘রক্ষী’ জা ইচ্ছা বানাতে পারতেন, অথবা ‘পত্রবাহক’ বানাতে পারতেন কেন ‘খোজা’-ই বানালেন? দ্বিতীয়ত, দেখা যায় যে এই চরিত্রটি সিরাজের বেগমের অন্তঃপুরেই এসে পৌঁছেছেন এবং বেগমও পর্দাপ্রথার কোন তোয়াক্কা করছেন না এনার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে। তৃতীয়ত, বেগম লুৎফাউন্নেসা এই খোজা চরিত্রটির প্রতি একটি বাক্য ব্যয় করেছে “তুমি চিরদিন নবাবের অগ্রগামী, হায়! আজ এই কুসংবাদ কেন নিয়ে এলে?” (রায় ও ভট্টাচার্য ৫৮২) বেগমের মুখনিঃসৃত এই কথাটি আরও ইঙ্গিত দেয় যে এই চরিত্রটি অন্যান্য পেয়াদা বা খানসামা চরিত্র থেকে আলাদা। আর এই তিনটি দিক বিচার করে আমি এই অনুমান করছি যে এই চরিত্রটি হয়ত সেই “Armenian Petrus” যিনি সিরাজের অপসারণের পিছনে ছিলেন। অপরদিকে এও সত্য যে শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত তাঁর ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাটকে এই চরিত্রটিকে একেবারে বাদ দিয়ে দিয়েছেন। তাই এই অনুমানকে সিদ্ধান্তে পরিণত করতে একটু অসুবিধাই হয়।

এবারে আসা যাক এমন একটি উদাহরণের আলোচনায় যেখানে প্রত্যক্ষভাবে একজন কলকাতায় বসবাসকারী আর্মেনিয়ানের চরিত্রকে দেখা যায়। বিখ্যাত সমালোচক সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের শ্যাম সাহেব এমন একটি ‘হ্রস্ব উপন্যাস’ বা ‘শর্ট নভেল’ যা “একটা গূঢ় বক্তব্যের তাগিদে লেখা উপন্যাস” (বন্দ্যোপাধ্যায় ৩৪২)। C.R. Wilson এর প্রবন্ধটির মতো এই উপন্যাসটিও আমি হাতে পাইনি, যেটি পেয়েছি সেটি হল এর চলচ্চিত্র। ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে ‘মনিকা মুভিজ’ এর তরফ থেকে সলিল দত্তের নির্দেশনায় এই সিনেমাটি প্রকাশিত হয়। নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন প্রখ্যাত অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, এছাড়াও অন্যান্য মুখ্য ভূমিকায় দীপঙ্কর দে, অপর্ণা সেন প্রমুখেরা অভিনয় করেন। উপন্যাসটি হাতে না পাওয়ার দরুণ আমি এই সিনেমাটি অবলম্বন করেই আলোচনায় অগ্রসর হব। যদিও উপন্যাসের চলচ্চিত্রায়নের ফলে সিনেমাটির মধ্যে কিছু মিশেল থাকার সম্ভাবনা থেকেই যায় তবুও এই কথা ঠিক যে তাতে উপন্যাসের অধিকাংশটিই পাওয়া যায়। এই শ্যাম সাহেবের সম্পূর্ণ নাম হল স্যামুয়েল আরাথুন। ইনি কলকাতার প্রিটোরিয়া স্ট্রিটে ‘Aratoon’s Girls High School’ চালান এবং সেখানে ১. শ্যাম সাহেবের দ্বারা পড়ানোর জন্য নিযুক্ত আছেন বাঙালি মহিলারা এবং ২. এই স্কুলটি উন্মুক্ত কম আয়ের বাঙ্গালী পরিবারের জন্য, যারা তাদের শিশুদের ইংরাজি শেখাতে পারেনা অর্থের কারণে। এই দ্বিতীয় কথাটি অভিনব, আমরা যদি বর্তমান সময়ে আর্মেনিয়ান কলেজের দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাব সেই প্রতিষ্ঠানে বাঙালীরা পড়ানর সুযোগ পায় কিন্তু তা বাঙালি শিশুদের জন্য উন্মুক্ত নয়, সেখানে কলকাতার তথা ভারতের আর্মেনিয়ান শিশুরাই পঠন-পাঠন করে। আমরা ধরে নিতে পারি যে পূর্বে এই কলকাতার কোথাও সত্যিই হয়ত ‘Aratoon’s Girls High School’ এর মতো স্কুল কোনো জনৈক আর্মেনিয়ান খুলেছিলেন বাঙ্গালীদের জন্য এবং সঠিক পরিচালনার অভাবে তা বন্ধ হয়ে যায়। জীবনের শুরু থেকেই স্যামুয়েল বণিক মানসিকতার মানুষ ছিলেন, তিনি অনেক অর্থ ও সম্পত্তিরও মালিক ছিলেন। সিনেমার একটি গানে তার এই মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায় আরও ভালোভাবে। স্কুল খোলার পরেই যখন স্যামুয়েল একটু লাভের মুখ দেখে তখন সে আনন্দে গেয়ে ওঠে “ আহা রে প্যাইসা, ওয়াহা রে প্যাইসা…”। এবার প্রশ্ন উঠতে পারে, কীভাবে আমি বুঝলাম যে এই চরিত্রটি একজন আর্মেনিয়ান? সিনেমায় নিজের জীবন সম্পর্কে এবং সেই স্কুলের ইতিহাস সম্পর্কে বলার সময়ে স্যামুয়েল তার দ্বিতীয় বিবাহের কথা বলেন। স্যামুয়েল রাঁচিতে একজন ভারতীয় নারীকে বিয়ে করেছিল, তার নাম ফুলমণি এবং এই কথা বলার পর সে বলে “আমার আর্মেনিয়ান সোসাইটি এই বিয়ে মানল না।”(01:07:48) এই একটি বাক্য যেমন এটি বুঝতে সাহায্য করে যে তিনি একজন আর্মেনিয়ান ছিলেন অপর দিকে এটিরও ইঙ্গিত দেয় যে আর্মেনীয়রা ভারতীয়দের থেকে এই বিষয়ে দূরত্ব বজায় রাখত। এটি খুবই রক্ষণশীল মনোভাবের পরিচায়ক যা বর্তমানে এত কঠোরভাবে আর আর্মেনীয় সমাজে নেই, বর্তমানে একটি নতুন পরিচয় তৈরি হয়েছে যাকে নাম দেওয়া হয়েছে ‘Half Armenian’। স্যামুয়েল জানতেন যে তাকে ‘শ্যাম’ সাহেব বলা হয় এবং সেটি কৃষ্ণের আরেক নাম, এর পরিচয় সিনেমাটিতেই পাওয়া যায়। তার এই জ্ঞান এই কথার ইঙ্গিত দেয় যে আর্মেনীয়রা বাঙ্গালী তথা ভারতীয় ধার্মিক বিশ্বাস সম্পর্কে অবহিত ছিল। সিনেমার অন্তিম পর্বে দেখা যায় স্যামুয়েল তার স্কুল এবং সম্পত্তি মুখ্য নায়িকা চন্দ্রার নামে উইল করে যান এবং তার কায়মনোবাক্যে ইচ্ছা যে চন্দ্রাই যেন তার স্কুল চালায় ভবিষ্যতে। এটি অবশ্যই একটি ব্যতিক্রম উদাহরণ। এমন উদাহরণ আমি পাইনি যেখানে কোন আর্মেনিয়ান বাঙ্গালী বা ভারতীয়কে এরূপ দান বা দায়িত্ব দিয়েছেন, বেশীরভাগ সময়েই দেখা গিয়েছে তারা হয় অন্য কোন আর্মেনীয় অথবা ভারতের কোন আর্মেনিয়ান চার্চ কে তাদের স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি দান করে গেছেন। তবে নিশ্চয়ই কোন উদাহরণ হয়ত থেকে থাকবে যেখান থেকে লেখক সূত্র সংগ্রহ করে তার রচনায় এই ঘটনাটি অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তবে এই কথাটিও মানতেই হয় যে সাদা-কালো মিশিয়েই একটি গোটা মানুষ তৈরি হয়। স্যামুয়েলের এই কার্যের মাধ্যমে এই দিকটি ফুটে আরও ওঠে যে গোটা আর্মেনীয় সমাজ কেবলই বণিক মানসিকতায় পরিপূর্ণ ছিল না, তাদের মধ্যে একটি জনদরদী মন ও ছিল।

মহাশ্বেতা দেবী তাঁর আরমানি চাঁপার গাছ উপন্যাসে আমাদের নিয়ে যান বঙ্গ ইতিহাসের একটি কুখ্যাত সময়ে; ১৭৬৯ খ্রিস্টাব্দে (১১৭৬ বঙ্গাব্দ)। স্থান বহরমপুর থেকে চার মাইল দূরে জেমোকান্দি গ্রামের বুনোপাড়া। তাঁর কথায়-

“এই সর্বনেশে মন্বন্তরের কথা তোমরা সবাই জান। কিন্তু মাতোর কথা জান না, আর বহরমপুরের আরমানি গির্জেতে সেই চাঁপা ফুলের গাছটার কথা জান না।…আরমানি চাঁপার গন্ধ। আরমানি গির্জের বাগানের এক কোনে গাছটা রেলিং দিয়ে ঘেরা।” (মিত্র ১৫০)

এই উপন্যাসটিতে আছে বুনোপাড়ার দশ বছরের এক কিশোর মাতো ও তার প্রিয় পোষ্য ছাগল অর্জুনের কথা, কীভাবে গোটা পাড়ার অন্ধবিশ্বাসের টার্গেট হওয়া অর্জুনকে সে বাঁচায় সেই বহরমপুরের আরমানি গির্জার পাদ্রিসাহেবের কাছে পালিয়ে গিয়ে। শেষ অবধি দেখা যায় মাতোর অকালমৃত্যু হয়, অর্জুনেরও খবর সেভাবে পায়না পাঠক কিন্তু থেকে যায় সেই আরমানি গির্জা এবং গির্জার মধ্যের রেলিং ঘেরা আরমানি চাঁপার গাছটির ছবি পাঠকের মনে। উল্লেখ্য এটিও একটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের উপন্যাস এবং খুবই সংক্ষিপ্তভাবে আমরা এই আর্মেনিয়ান পাদ্রিকে দেখতে পাই। যতটুকুই পাই তার মধ্যে এই মানুষটিকে বেশ দরদী মনে হয় এবং মাতোও সেই কথাটি জানে। কারণ যখন সে জানতে পারে যে অন্ধবিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে গ্রামে আসা কাপালিকের নির্দেশে গোটা পাড়া অর্জুনকে খুঁজতে শুরু করে দিয়েছে তাকে বলি দেবে বলে তখন সে নিরাপদ ও ভরসাযোগ্য স্থান হিসাবে খুঁজে পেয়েছিল এই গির্জা ও পাদ্রিকেই। লেখিকার বলেছেন “মাতো জানে মাতোকে কোথায় যেতে হবে।…গির্জের পাদরিকে মাতো চেনে,… ওখানে একবার ঢুকে গেলে আর কোনো ভয় নেই।” (মিত্র ১৬০) একটি শিশুর বিশ্বাস নিষ্কলুষ এই কথা আলাদা করে বোঝানর দাবী রাখে না। আর এইখান থেকেই স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায় আর্মেনীয় সমাজের চরিত্রের একটি অন্যতম দিক। এই উপন্যাসের শেষে আরও একটি অনুমান জেগে ওঠে, বঙ্গদেশে যেসকল প্রান্তিক জনগোষ্ঠী আর্মেনিয়ানদের চিনেছিল বা কিছুমাত্র সংস্পর্শে এসেছিল তাদের মধ্যের বেশকিছু মানুষ হয়ত ধর্মান্তরিত হয়ে খ্রিশ্চান হয়েছিল বিভিন্ন কারণে। কিছু সংকেত এই ইঙ্গিত বহন করে। ১. এটি জানা যায় না যে মাতো যেইদিন পালিয়ে গিয়ে গির্জায় আশ্রয় নিয়েছিল সেইদিনই সঙ্গে সঙ্গে মারা গিয়েছিল কি না? ২. মাতো গির্জায় ঢুকলে যখন পাড়ার লোকেরা তাকে এবং তার ছাগলকে পাদ্রির কাছ থেকে দাবী করে তখন বুড়ো পাদরি তাদের বলেছিল “ওকে আমি কিছুতে যেতে দেব না। তা ছাড়া গির্জেয় ঢুকলে তো ওকে দিয়ে আর মায়ের বলি হয় না? তোমরাই তা বল।” (মিত্র ১৭২) এ কী নিছকই চার দেওয়ালের ঘরে আশ্রয় দেওয়ার থেকে উদ্ভূত কথা নাকি তাকে ধার্মিক আশ্রয় দিয়ে তাকে তার সমাজের অন্ধবিশ্বাসের থেকে বাঁচানোর উপায়? ৩. গির্জায় মাতোর মা আসে একদিন, এসে মাতোর কথা জিজ্ঞেস করে যেই কথাটি বলে এবং তার পরে সে যা দেখে তাতে সেই আরমানি গির্জায় মাতোর ধর্মান্তরিত হয়ে যাওয়ার একটি ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সে জিজ্ঞেস করে “হ্যাঁ গো পাদরিবাবা, সবাই বলে সে নাকি তোমার মন্দিরে যেমন ঢুকেছিল তেমনি উঁই যে ঠাকুরগো, মায়ের কোলে ছেলে উনি নাকি হাত বাড়িয়ে মাতোরে বুকে টেনে নেছে?” (মিত্র ১৭২) আর এর পরে পাদরি তাকে দেখায় যে তার ছেলে ওই আরমানি চাঁপার গাছের নিচে ‘ঘুমোতে গেছে’। যদিও অনেক প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে কবর দিয়ে শেষকৃত্য সম্পন্ন করার নিয়ম আছে তবুও ফেলে দেওয়া যায় না মাতোর মার লোকমুখে শোনা কথাটি, ওই মন্দিরের দেবতা (যিশু) মাতোকে তার বুকে টেনে নিয়েছেন। এই সুত্রগুলি থেকে অনুমান করা যায় যে এই শিশুটি তার সমাজের রোষ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য শেষ সময়ে ধর্মান্তরিত হয়েছিল এবং তার পিছনে ভূমিকা ছিল সেই আর্মেনিয়ান পাদ্রির। আর এই উদাহরণ থেকে একথাও আশা করা যায় যে এইপ্রকার ধর্মান্তকরণ বঙ্গ সমাজে আরও ঘটেছিল, যার পিছনে মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন আর্মেনিয়ানরা।

মিতিন মাসি গোয়েন্দা সিরিজের গল্প আরাকিয়েলের হিরে আমাদের নিয়ে আসে মোটামুটি একবিংশ শতকের শুরুতে, কারণ গল্পে মিতিন মাসি মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে এবং কম্পিউটার এইটুকু লভ্য হয়েছে যে তথাকথিত মধ্য বা উচ্চ-মধ্যবিত্ত একটি ঘরের বাচ্ছা বুমবুম তার ঘরেই কম্পিউটারে গেম খেলতে পারছে খুব কম বয়স থেকেই; গল্পের অন্য শিশুচরিত্র টুপুরও সেইভাবে নিজের অবসর যাপন করে থাকে। সে যাই হোক এই গল্পের নামকরণে যে ‘আরাকিয়েল’ নামটি উঠে এসেছে আগে তার কথা একটু বলে নি। ইনি ছিলেন অষ্টাদশ শতকের কলকাতায় একজন নামকরা আর্মেনিয়ান ব্যবসায়ী, পুরো নাম আঘা ক্যাটচিক আরাকিয়েল (Agha Catchick Arrakiel)। জন্মবৃত্তান্ত নিয়ে একটু ধোঁয়াশা আছে, অনেক ঐতিহাসিকের মতে এনার জন্ম আর্মেনিয়ার জুলফা(Zulfa) নামক প্রদেশে আবার ইতিহাস বলে যে এনার পিতার মৃত্যু হয়েছিল ঢাকায় ১৭৪২ এ। যিনি ছিলেন সেই জুলফা প্রদেশের একজন নেটিভ, আমার মনে হয় সেই কারণেই এই সংশয় তৈরি হয় (Seth 453)। আরাকিয়েলের সাতটি সন্তান ছিল, দুটি পুত্র এবং পাঁচটি কন্যা (Seth 455)। পরবর্তীকালে এনার জ্যেষ্ঠপুত্র আঘা মোজেস আরাকিয়েল (Agha Moses Arrakiel) পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করেন এবং তিনিও কলকাতার সমাজে ব্যবসায়ী হিসাবে পরিচিত হন। ক্যাটচিক আরাকিয়েল যথেষ্ট বিত্তবান ছিলেন এবং তিনি কলকাতার আর্মেনিয়ান গির্জার উন্নতিসাধনে প্রভূত সাহায্য দান করেন। অবশেষে ১৭৯০ খ্রিস্টাব্দে মাত্র আটচল্লিশ বছর বয়সে তাঁর অকালপ্রয়াণ হয় (Seth 449) এবং বর্তমানে কলকাতার আর্মেনিয়ান গির্জায় তিনি কবরে শায়িত আছেন। এহেন মানুষের বংশের আভিজাত্যের প্রতীকস্বরূপ বহুমূল্য হিরেটি খোয়া গেছে বলে খবর জানিয়ে এবং সেইটি খুঁজে দেওয়ার অনুরোধ নিয়ে তাঁরই বংশধরদের মধ্যে একজন; নাম হাসমিক (ইংরাজিতে জেসমিন) ভারদোন আসেন মিতিন মাসির কাছে। পরিচয়পর্বে জানা যায় যে তারা থাকেন কলকাতার লালবাজারের নিকটস্থ মারকুইস স্ট্রিটে। ইনি থাকেন তার পিসি-পিশেমশাইয়ের বাড়িতে। গত হওয়া পিশেমশাইয়ের নাম জোসেফ মেলিক আরাকিয়েল এবং বর্তমানে জেসমিন যার সঙ্গে থাকেন অর্থাৎ তার পিসির নাম ইসাবেল আরাকিয়েল। এই মোটামুটি একটি আর্মেনিয়ান পরিবারের অস্তিত্ব পাওয়া যায় এই গল্পে। ইসাবেলের বাড়ির বর্ণনায় প্রথম কথা যেটি উঠে আসে সেটি হল “বাড়িটি প্রাচীন, কিন্তু জরাজীর্ণ নয়” (ভট্টাচার্য ৩৫) এবং মিতিন ও টুপুর ঘরে ঢুকলে তাদের চোখ দিয়ে আমরা দেখতে পাই যে সত্যিই প্রাচীন হলেও তাতে আভিজাত্যের ছাপ আছে। পরে আমরা ইসাবেলের মুখ থেকে এও জানতে পারি যে “জোসেফের খুব ইচ্ছা ছিল আর্মেনিয়ান অ্যাকাডেমিকে কিছু দান করার।” (ভট্টাচার্য ৮৯)। আর ঠিক এই কথাটিই আমি পূর্বে বলতে চেয়েছি শ্যাম সাহেবের আলোচনায়। প্রায় সকল আর্মেনিয়ানেরই ইচ্ছা মোটের উপর এইটিই ছিল যে তাদের বংশধর থাকুক আর না থাকুক নিজস্ব সম্পত্তি দান করার প্রশ্নে তারা হয় আর্মেনিয়ান সোসাইটি বা আর্মেনিয়ান গির্জার কথা আগে ভেবেছে। শ্যাম সাহেবের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি একটু ব্যতিক্রম। এই গল্পের বিভিন্ন স্থানে পার্থমেসোর মুখ দিয়ে লেখিকা পাঠকদের ভারতে এবং বাংলায় আর্মেনিয়ানদের ইতিহাস সম্পর্কে অনেক তথ্য তুলে এনেছে যা পাঠককে সমৃদ্ধ করে। সবশেষে আর্মেনিয়ানরা যে বিত্তবান ছিলেন এই কথাটি প্রমাণিত হয় গল্পের শেষে মিতিন মাসিকে তার পারিশ্রমিক দেওয়ার সময়ে। ইসাবেলের কাছ থেকে মিতিন পারিশ্রমিক হিসাবে দুই লক্ষ টাকা পেয়েছিল (ভট্টাচার্য ১০২)। এই গল্পের আর্মেনিয়ান পরিবারটি বণিক পরিবার, জোসেফ একজন ব্যবসায়ী ছিলেন এবং জেসমিনও জীবনধারণের জন্য মোমবাতিরই ব্যবসা করে নিজের হাতে বানিয়ে।

‘শ্যাম সাহেব’ সিনেমাটিতে স্যামুয়েলের অন্তিম সময়ে তার মুখে বসানো হয়েছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা “মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভূবনে, মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই…” এবং পরে একটি ইন্টারভিউ তে Zaven Stephen নামক একজন আর্মেনিয়ানকে বলতে শোনা যায় “So has India, which is my motherland while Armenia is my fatherland.” (Banerjee Gupta and Mukherjee 84)। ব্যবসা-বাণিজ্যের সূত্রে সুদূর পাশ্চাত্য থেকে এসে শেষ অবধি তারা আপন করে নিয়েছে এই বাংলা কে, মিশে গিয়েছে বাংলার সমাজের সঙ্গে নানা পেশার মাধ্যমে। বাঙ্গালীদের সঙ্গেই তারা দেখেছে এই বঙ্গের নানা ভাঙাগড়া সেই ১৬৬৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে আর সেই কারণেই বাংলা সাহিত্য ও অন্যান্য লেখনিতেও তাদেরকে কেবলই বণিক প্রতিপন্ন করেননি লেখকেরা। এই দীর্ঘ সম্পর্কের কারণেই আমার বিশ্বাস কলকাতায় বসবাসকারী বর্তমানের আর্মেনিয়ান সমাজ সংখ্যালঘু হয়ে পড়লেও বাংলা ছেড়ে আর্মেনিয়ায় চলে যেতে চায় না।

সূত্রনির্দেশঃ

বাংলা-

  • ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ. সহজ পাঠ; দ্বিতীয় ভাগ. বিশ্বভারতী গ্রন্থনবিভাগ, কলকাতা, পুনর্মুদ্রণ ১৩৯২ বঙ্গাব্দ, org. ওয়েব
  • বন্দ্যোপাধ্যায়, সরোজ. বাংলা উপন্যাসের কালান্তর. কলকাতা: দে’জ পাবলিশিং, ষষ্ঠ সংস্করণ ২০১২. প্রিন্ট
  • ভট্টাচার্য, সুচিত্রা. আরাকিয়েলের হিরে. কলকাতা: আনন্দ পাবলিশার্স, চতুর্থ মুদ্রণ ২০১৮. প্রিন্ট
  • মিত্র, অশোককুমার. সম্পা. মহাশ্বেতা দেবী কিশোর সাহিত্য. কলকাতা: শিশু সাহিত্য সংসদ, তৃতীয় মুদ্রণ ২০১৮. প্রিন্ট
  • রায় ও ভট্টাচার্য সম্পা. গিরিশ রচনাবলী; প্রথম খণ্ড: সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, ১৯৬৯, org. ওয়েব
  • সাঁতরা, তারাপদ. কীর্তিবাস কলকাতা. কলকাতা: আনন্দ পাবলিশার্স, পঞ্চম মুদ্রণ ২০১৯. প্রিন্ট
  • সিংহ, কালীপ্রসন্ন. হুতোম প্যাঁচার নক্সা. কলকাতা: কমলিনী প্রকাশন বিভাগ, ২০১৭. প্রিন্ট

 

ইংরাজি-

  • Alam, Shafiqul. “End of an era: Bangladesh’s last Armenian dies”. The Jakarta Post. Web. 9 May 2020. <https://www.thejakartapost.com/news/2020/05/09/end-of-an-era-bangladeshs-last-armenian-dies.html.>.
  • Banerjee Gupta and Mukherjee Eds. Calcutta Mosaic: Essays and Interviews on the minority communities of Calcutta: First Edition. Anthem Press. New Delhi. epdf.pub. Web
  • Niyogi, Subhro. “Armenian students airlifted from Kolkata”. The Times of India. Web. 31 March 2020. < https://timesofindia.indiatimes.com/city/kolkata/armenian-students-airlifted-from-kolkata/articleshow/74903643.cms>.
  • Seth, Mesrovb Jacob. Armenians in India: From the earliest times to the present day. Published by the Author, Calcutta, 1937, archive.org. web
  • Sircar, Jawhar. Job charnock or the Armenians: Who Founded Calcutta? The Sunday Statesman. 25th August 1985. <http://jawharsircar.com/assets/pdf/Job_Charnock_or_the_Armenians_Who_Founded_Calcutta_Jawhar_Sircar.pdf>.

 

অন্যান্য-

 

Print Friendly, PDF & Email
0 0 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments