শুভ জন্মদিন, রবীন্দ্রনাথ।
আজ শতবর্ষেরও আধিক সময় হয়েছে পার-
আজও দেখ কেমন ‘ পঁচিশে বৈশাখ চলেছে জন্মদিনের ধারাকে বহন করে,
কত শত কারিগর গাঁথছে ছোট ছোট জন্ম মৃত্যুর সীমানায়
নানা রবীন্দ্রনাথের একখানা মালা’ ।

আচ্ছা! রবি- আজ তো তুমি মুক্ত বিশ্বভারাতীর নেই কোনও চোখ রাঙ্গানি ,
আজ তবে বলতেই পারি সবার সামনেতে-
তুমি রোজ আসো আমার বিকেলের আড্ডাতে,
মোর চোখের জল মোছাতে তুমি আছো আমার সকল হাসি-কান্নাতে।

জন্মদিনে আজ তোমায় একটা গল্প শোনাব, রবি, শুনবে?
তোমারই লেখা কিছু কথা দিয়ে মোড়া আমার গল্প।

আমি গো আমি, আমায় চিনতে পারছ না?!

আমি- সারাদিন মাঠে-ঘাটে,
মাতাল স্বামীর লাঞ্ছনা মাঝরাতে,
আমার নাম কেউ মনে রাখেনি-
আমি জেলে পাড়ার মেয়ে গো
আমি দুলু মিয়াঁর ঘরণী।

আমি- সকালে মায়ের সাথে ফুল তুলি,
গাছের আড়ালে লুকোচুরি ।
আমার সেদিন স্কুল ফেরার পথে দেরি-
বড় রাস্তার পাশের গলিটা – নির্জন ঠিকই ,তবু পৌঁছে যাব তাড়াতাড়ি;
মা আজও ভাবে- লুকিয়ে আছি বুঝি-
“কই তুই ? কোথায়ে গেলি ‘বামি’?”
কি করে বলি তোমায়, মা , ফিরবো না যে আর –
“ হারিয়ে গেছি আমি” ।

আমি- ‘অন্তপুরের মেয়ে’,
স্বাধীনতার দাবি নিয়ে ‘ঘরে-বাইরে’।
আমি গৃহকর্ত্রী আমিই চাকুরীরতা ,
তোমাদেরই মাঝে বসে হয়ত বা-
নেহাতই আরেকটি মুখ ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া।
তবু সে আঁধার রাতে যন্ত্রণার তীব্র আঁচে
জ্বলে উঠেছিল গোটা দেশ-
রক্তে মাখা শরীর লিখেছিল লজ্জার ইতিহাস।
আমার লড়াই মৃত্যুও থামাতে পারেনি –
আমি দিল্লীর নির্ভয়া আমি বাংলার দামিনী ।

এবারে চিনতে পেরেছ আমায় ,রবি ?-
আমি তোমার সেই ‘সাধারন মেয়ে’ গো,
অতি সাধারন কিছু ইচ্ছেপুরনের ছিল দাবি –
জীবন সে ধৃষ্টটা ক্ষমা করেনি।
আমার গল্পে দিয়াছে আকালেই দাঁড়ি টানি ।

ক্ষমা কর, রবীন্দ্রনাথ- তোমায় জন্মদিনে এমন দুঃখ দিতে চাইনি ।
ক্ষমা কর, রবীন্দ্রনাথ – তোমার চুরি যাওয়া নোবেলটিও ফিরিরে দিতে পারিনি।
ক্ষমা কর, রবীন্দ্রনাথ – তুমি আজও সীমাবদ্ধ শুধুমাত্র একটি জাতীর গুটিকয়েক স্মরন সভায় –
তোমায় প্রতিটি বিশ্ববাসীর মনে জায়গা দিতে পারিনি।
ক্ষমা কর, রবি-
‘সার্থক জনম’ তোমার যে মায়ের পুণ্যভূমিতে –
কলঙ্কিত আজ তাঁর কোল,
প্রতিবছর যার আরাধনায় লক্ষকোটি টাকা ওড়ে
রক্তে মাখা তাঁর আঁচল
লুটায় মাটিতে।

ক্ষমা কর, রবীন্দ্রনাথ।
ক্ষমা করো সে ‘উন্মাদ’কে যে আজও মরেছে পাথরে নিষ্ফল মাথা কুটে ,
বিচারের বানী আজও এ দেশে নীরবে নিভৃতেই কাঁদে ।

দোহাই তোমার রবীন্দ্রনাথ, আরেকটি বার কলম ধর,
আস্থির সময় বড় – আপামর দেশবাসী অপেক্ষায়ে তোমার,
জন্মদিনে তোমার কাছে আর্জি –ফিরে এসো আরেকটি বার ,
শতবর্ষ ধরে সেই ‘প্রশ্নের’ উত্তর আছে যে জানার।
বলে যাও, রবি-
যাহারা মানুষের মুখোশধারী,
তোমার ‘বামি’ কে করেছে চুরি ,
লাঞ্ছিত তোমার ‘সাধারন মেয়ে’-
যাহারা অকালে নিভায়েছে তাদের জীবন আলো ,
তুমি কি তাদেরও ক্ষমা করিয়াছ?
তুমি কি তাদের বেসেছ ভালো?!

Previous articleThe New Generation Games
Next articleপায়ের ছাপ
Anindita Nath
Employee of Food Corporation of India MBA Evening Student of Jadavpur University Hobbies: Creative Writing , Recitation, Photography
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted