শীল vs. শীল (দ্বিতীয়-পর্ব) – click here

আট।

 

জিতু চুক চুক করে একটা বিয়ারের বোতল সিপ করছিল … ওদের মধ্যে প্রায় সবাই বিয়ার নিয়েছে, শুধু মাম্পি লস্যি আর শালিনি একটা সোডা নিয়ে বসে আছে। একটু পরেই অবশ্য মাম্পি লস্যি শেষ করে উঠে গেল, হয়তো রেস্ট রুমের দিকে। জিতু অবশ্য আজকে মাম্পির দিকে একটু বেশী নজর দিচ্ছে … মেয়েটার মধ্যে কেমন একটা নাইভ মেয়ে মেয়ে ব্যাপার আছে যা তার বেশ ভালো লাগছে। মাথাটা ঘুরিয়ে জিতু দেখলো মাম্পি একটু দূরে দাঁড়িয়ে মোবাইলে কার সাথে মাথা নাড়িয়ে নাড়িয়ে কি কথা বলছে … এই হচ্ছে মুশকিল, মেয়েদের বোধহয় সারা দুনিয়ায় বন্ধুতে ভর্তি। খাওয়া বোধহয় সবারই শেষ, কিন্তু … ড্যাম … আজকে যে শনিবার। কাজেই এখনই ঠিক বাড়ী ফিরতে কেউই চায় না। ওরাও টেবিলে বেশ জুত করে বসে অন্য কোন টপিকে কথা বলা শুরুর চিন্তা করছিল … দলজিতের পকেট থেকে একটা তাসের প্যাকেটও বেরিয়ে এলো। এখানে এরকম হয়েই থাকে, টেবিল একবার ছেড়ে দিলে আর সেদিন সন্ধ্যের মতো আর পাওয়া যাবে না, কাজেই সকলে গেদে বসে থাকে। অবশ্য এখানে দোতলার ঢাকা ছাদেও খাওয়ার ব্যাবস্থা আছে, সেখানেও অনেকে যায়। আর ভিড় … সে তো অন্তত রাত সাড়ে দশটা এগারটা অবধি চলবে … মুম্বাই শহরে রাত দশটা বা এগারটা তো কিছুই নয়, বিশেষ করে যেসব ফ্যামিলির নিজের ফোর হুইলার আছে।

জিতু একটু দ্বিধাতে আছে … একচুয়ালি সে ঘাপটি মেরে আছে মাম্পি কখন ওঠে। সে আজ মাম্পিকে লিফট দিচ্ছেই … মানে সেই রকমই ইচ্ছে। ওরা জানে যে মাম্পির গাড়ী নেই, সে অটো করেই যাতায়াত করে বা কেউ লিফট দেয়। কিন্তু প্রবলেমটা হচ্ছে যে মাম্পি উঠছে কিনা বোঝাই যাচ্ছে না, সে তো কথায় মগ্ন। জিতুর অবশ্য এই মুহুর্তে বাড়ী যাবার সে রকম কোন ইচ্ছে নেই, কিন্তু মাম্পিকে নিয়ে একটু ঘোরা যেতে পারে … ও যদি রাজি হয় তাহলে আবার কোথাও কফি খেতে যাওয়া … এই আর কি। না হলে আর এই আড্ডা ছেড়ে কেই বা যেতে রাজি হয়… !

মাম্পি অবশ্য আর পাঁচ মিনিট পরেই ফিরে এলো। এসে নিজের জায়গায় বসে আবার নিজের মোবাইলটা নিয়ে একটু খুট খাট করে সবার দিকে ফিরলো …

মাম্পি। Guys, I have to go now.  কালকে যদি তোমরা কোথাও মীট কর তাহলে একবার টেক্সট করে দিও। থ্যাঙ্কস ফর এভরি থিং … হ্যাভ আ নাইস ইভিনিং …।

জিতু এই সময়টার জন্যই অপেক্ষা করছিল। ও নিজের মোবাইলটা নিয়ে কিছু বাটন টিপে একটু কিছু দেখার ভান করলো যেন নতুন কোন টেক্সট এসেছে, তারপর বললো …

জিতু। বস, আমারও একটু আগে আজ যেতে হবে … একটু তাড়া আছে।

অর্ক। জিতু, মাম্পির না হয় অটো করে ফেরার তাড়া আছে … আর ও তো থাকেও একটু দূরে। কিন্তু তোর কি ব্যাপার? বাবা কি কার্ফিউ দিয়েছে নাকি?

জিতু। না রে ভাই … বাবা আছে বাবার মতো, আমি আমার মতো। আজকে ঘরে গিয়ে একটু কাজ আছে, পরে বলবো।

জিতু নিজের চেয়ারটা ঠেলে বেরিয়ে এসে ওদের দিকে হাতটা নেরে আবার বললো – কালকে তোদের কাউকে ফোন করে নেব।

তারপর সেই ভিড়ে ভর্তি করিডোরের দিকে এগিয়ে গেলো। মাম্পি একটু এগিয়ে গিয়েছিল … তবে ওকে তো আর একটু এগোতে দিতে হবে, এই ঘড়ের মধ্যে ওর সাথে কথা বলা যাবে না। দরজা দিয়ে বাইরে বেরোলেই জিতু ইনোসেন্টলি এগিয়ে যাবে … এটাই ওর প্ল্যান।

ব্যাপারটা ঠিক সেই রকমই হোল, মাম্পি বাইরে বেরিয়ে ঠিক কোন দিকে গেলে ঝট করে একটা অটো পেয়ে যাবে সেটাই ভাবছিল, এমন সময় পিছন থেকে কেউ একটা ডেকে উঠলো …

জিতু। হাই মাম্পি … কি অটো খুঁজছ?

মাম্পি পিছন ফিরে তাকাল … জিতু একটু পিছন থেকে ওর দিকে গিয়ে আসছে। মাম্পি একটু অবাকই হোল।

মাম্পি। কি ব্যাপার জিতু … তুমিও কি উঠে পরলে নাকি? আজ এতো তাড়াতাড়ি … ?

জিতু। না মানে ব্যাপারটা একটু অন্য রকম …। আসলে কি জানো … আমি ভাবছি, একেবারে বসে না থেকে যদি কোন ম্যানেজমেন্টের কোর্সে ভর্তি হতে পারি। তাই বাড়ী গিয়ে ঘরে বসে প্রসপেক্টাস গুলোয় একটু চোখ বোলাব…। তুমি কোন দিকে যাচ্ছ?

মাম্পি। আসলে আমার এক ফ্রেন্ড মিট করতে আসছে, হয়তো ওর সাথে একটু আড্ডা মারব … যাচ্ছি একটু ইন্দিরা নগরের দিকে …।

জিতু। নাইস … আমিও ফিরব ওদিক দিয়েই … তোমাকে একটা লিফট দিতে পারি?

মাম্পি। না না  … আবার কষ্ট করবে কেন? আমি একটা অটো নিয়ে নেব …।

জিতু। কষ্ট আবার কিসের … ঐখানে আমার গাড়ীটা রয়েছে। এখানে একটু দাঁড়াও, আমি নিয়ে আসছি।

মাম্পি। ঠিক আছে … তোমার যদি সেরকম অসুবিধা না হয় …।

জিতু শুধু – থ্যাঙ্কস বলে নিজের গাড়ীর দিকে চলে গেল।

 

নয়।

 

এখান থেকে ইন্দিরা নগর খুব একটা দূর নয় … আর সত্যি বলতে জিতুর এদিক দিয়ে না গেলেও চলে, বাড়ীর দিকে আরো ডাইরেক্ট রুট আছে। কিন্তু মাম্পিকে একটা লিফট দেওয়ায় তার মনটা কেমন খুশ্‌ হয়ে গেল। মাম্পি দরজা দিয়ে পাশের সিটে এসে বসার পর থেকে কেমন একটা সুন্দর সুগন্ধ আসছে … খুব আলতো একটা পারফিউমের গন্ধ। জিতু আলাপটা আরো একটু ঘন করার উদ্দেশ্যে কথা বলা শুরু করলো …

জিতু। তোমাকে তো আমি বেশিদিন চিনি না … আমাদের দলে ভিরলে কি করে?

মাম্পি। আরে … শালিনির সাথে ফেস বুকে আলাপ। ওর পছন্দের গানের লিস্টের সাথে আমার বেশ মিলে যায়। তাই একটা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছিলাম … সে থেকেই। ওই তো আমাকে ইনভাইট করে সকলের সাথে আলাপ করিয়ে দিল।

জিতু। I see । তা তুমি কি অরিজিনাল মুম্বাইকার?

মাম্পি। ঠিক তা নয়। আমরা আগে দিল্লীতে থাকতাম … বাবা ওখানেই একটা ফার্মে সিনিয়র ইঞ্জিনীয়ার ছিলেন। পরে সেখান থেকেই বাবা একটা চেঞ্জ করে এখানে চলে আসে, সাথে আমরাও … মানে আমি আর মা।

জিতু। আমিও আগে বাঙ্গালুরুতে থাকতাম। পরে বাবা আর মার সাথে এখানে চলে এলাম, বাবা এখানেই সেটল করলো ।

শনিবারের রাত হলেও রাস্তায় ভিড় খুব মারাত্মক বেশী নয়। কোন কোন উইক এন্ডে এর থেকেও বেশী ভিড় হয়। তাছাড়া জিতু একজন তুখোর ড্রাইভার। সে দক্ষ হাতে গাড়ী চালিয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যেই ইন্দিরা নগরের কাছাকাছি চলে এলো … মাম্পি জানলা দিয়ে এদিক ওদিক তাকিয়ে নামার জায়গাটা খোঁজার চেস্টা করছিল। সেদিকে তাকিয়ে জিতু বুঝলো মাম্পি এবার নামবে … সে সোজা তার তিরটা ছুঁড়লো …

জিতু। কাল কি করছো? ফাঁকা আছো না busy?

মাম্পি। কাল … না স্পেশাল কিছুই নেই। তবে সকাল আর দুপুরটা বাড়ীতে অনেক কাজ মানে পড়াশুনো আছে। Actually আমি রিসেন্টলি হোটেল ম্যানেজমেন্ট কোর্সে ঢুকেছি … সেখানেই অনেক হোমওয়ার্ক দিয়েছে … বুঝলে না। তাই উইকএন্ডেও স্টাডি করতে হচ্ছে। তবে সন্ধ্যের দিকটা আমি ফ্রি …।

জিতু একটু হাসলো – তুমি তো খুব গুডি গুডি গার্ল … এই সেদিন মনে হয় গ্র্যাডুয়েশান করলে আবার এর মধ্যেই নতুন করে ম্যানেজমেন্ট কোর্স করছো … তা ঠিক আছে … আমি বিকালে সাড়ে পাঁচটা নাগাদ তোমায় কল করে নেব। কোথাও কফি খেতে যেতে আপত্তি নেই তো?

এবার মাম্পি মুচকি হাসলো – নাঃ, সেরকম কোন আপত্তি নেই। তবে আমাদের গ্রুপতো বোধহয় কালকেও কোথাও মিট করবে … সেখানেই মিট করলে হয় না?

জিতু। ধোর … ওরা তো সাতটার আগে কোথাও বসছে না … তার আগেই আমরা এক ক্ষেপ কফি মেরে দেব, তারপর তোমাকে আমি ড্রাইভ করে আমাদের আড্ডায় নিয়ে আসবো।

মাম্পি শুধু – ”OK Done” বলে জানলার বাইরে তাকাল, তারপর একটা অনির্দিস্ট জায়গা দেখিয়ে বললো – জিতু, আমায় এখানেই নামিয়ে দাও।

জায়গাটা একটু বিজি এবং ঘিঞ্জি, বেশ কয়েকটা রাস্তা এসে মিশেছে এখানে … প্রচুর গাড়ীর ভিড়। জিতু বিশেষ কিছু না বলে রাস্তার পাশে গাড়ীটাকে একটু সাইড করে দাঁড় করাল। মাম্পি টুক করে কেমন ওস্তাদের মতো গাড়ী থেকে নেমেই পাশের ফুটপাথে উঠে গেল, তারপর জানলার কাছে এসে মুখটা একটু নামিয়ে বললো – থ্যাঙ্কস এ লট জিতু। কালকে আবার দেখা হবে … গুড নাইট।

  • গুড নাইট, জিতু হাত নারলো তারপর রাস্তার দিকে তাকিয়ে সাবধানে গাড়ীটাকে প্রপার লেনে নিয়ে এলো … এখানে গাড়ী থামিয়ে কথা বলার কোন সুযোগ নেই … ফুট পাথে দাঁড়ান মাম্পি আস্তে আস্তে সাইড মিররের মধ্যে থেকে ছোট হতে হতে পিছনে ভিড়ের মধ্যে কোথায় হারিয়ে গেল।

 

*******

 

মহাদেব আজ বেশ মজায় ড্রাইভ করছে। আজকাল সে প্রায়ই নিজে ড্রাইভ করে, অফিসের মাইনে করা ড্রাইভার আর ভালো লাগে না, কেমন যেন প্রাইভেসির মধ্যে ইনট্রুশান বলে মনে হয়। তাছাড়া আজকাল মহাদেব আর জীবনে সেরকম তাড়াহুড়ো করে না … মাঝে মাঝে ভালো লাগলে হঠাৎ-ই কোথাও গাড়ী থামিয়ে দেয়, রাস্তার ধারে দূরের দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে বা কোথাও পার্কের মধ্যে কাঠের সিটে একটু বসে থেকে আবার রওনা দেয়। অফিসে সেরকম কমপিটিশানের ব্যাপার আর নেই। মি. সিঙ্ঘানিয়ার বয়স বেড়েছে, সে এখন মহাদেবের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল কাজেই চাকরী নিয়ে কোন অনিশ্চয়তা আর একদম নেই। বরং সিঙ্ঘানিয়া এখন মহাদেবের ঘরের লোক … বুড়োটা যখন তার ইম্পোর্টেড অডি গাড়ীটা নিয়ে কদাচিৎ অফিসে আসে তখন সারাক্ষণ মহাদেবের ঘরেই বসে থাকে … ওর নিজের ওয়েল ডেকরেটেড অফিস ঘরে ঢোকেই না … মহাদেবের ওখানেই লাঞ্চ খায়। মাঝে মাঝে সিঙ্ঘানিয়া গাড়ী পাঠিয়ে মহাদেবকে নিজের মুম্বাইয়ের বাড়ীতে ডেকে নিয়ে যায় একসাথে সন্ধ্যাবেলাটা কাটাবার জন্য। এই একটু তাস খেলা, একটু ব্ল্যাক লেবেলের গেলাস … এই আর কি। স্ত্রী মারা যাবার পর বুড়ো মানুষটা আজ বরই একলা, মহাদেব সেটা বোঝে। ওনার ছেলে সিদ্ধার্ত বা সিড তো বাচ্চা ছেলের মতো, মহাদেবের কাছে সমস্ত অফিসিয়াল ম্যানেজমেন্টটা শিখছে … যখন অফিসে থাকে তখন ওকে বস্‌ বলে ডাকে, সারাক্ষণ পায়ে পায়ে ঘোরে … এটা অবশ্য সিঙ্ঘানিয়ারই অ্যারেঞ্জমেন্ট … বছর দুয়েক আগে সে নিজেই একদিন হঠাৎ এসে সিডকে ইনট্রোডিউস করে দিয়ে গিয়েছিল … সিড সিঙ্ঘানিয়া ফ্যামিলীর থার্ড জেনারেশান এই ব্যাবসায়ে, ওই একদিন সব পাবে। অবশ্য অফিসে ওকে সেরকম পাওয়া যায় না, ও আবার মুম্বাই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়াশানের দারুণ উৎসাহী একজন সদস্য … মাঝে মাঝেই বাড়ীতে বড় পার্টি দেয় আর হোমরা চোমরা নতুন পুরনো প্লেয়ারদের ডেকে এনে পেটপুরে খাওয়ায় … আগে মহাদেবও মাঝে মাঝে যেত।

আজকে অবশ্য মহাদেব নিজের মনে ড্রাইভ করছে … শনিবারের সন্ধ্যে, এখন এই রাত আটটা চল্লিশ মতো হয়েছে … এখন তো মুম্বাইয়ে সবে সন্ধ্যে …। ওর গাড়ীর মিউসিক প্লেয়ারে খুব আস্তে করে বাজছে টোনি ব্রাক্সটনের সেই বিখ্যাত গান – un-break my heart, say love me again …। রাস্তায় যেখানে কোথাও কোন রেস্তোরাঁ বা মল রয়েছে সব জায়গায় বেশ ভিড় … সিনেমা হলের আসে পাশে দু একটা এ.টি.এম.-য়ে লাইন পড়েছে। মহাদেব আবার অনুভব করলো যে মুম্বাই সত্যিই একটা বেশ জমজমাট শহর। রাস্তা দিয়ে মহাদেব এখন মিডিয়াম স্পীডে চলেছে … ইন্দিরা নগরে পৌঁছতে আর বড়জোর মিনিট দশেক লাগবে। কিন্তু ওখানে পার্কিং স্পেশ পাওয়া বেশ ঝামেলার, বিশেষ করে উইকএন্ডের সন্ধ্যে বেলায় … দেখা যাক সেরকম প্রবলেম হলে পাশে কোন ছোট গলিতে ঢুকিয়ে পার্ক করবে।

 

দশ।

 

রাস্তার ধারের সাইড পার্কিং থেকে লেনে ঢুকতে জিতুর একটু ঝামেলা হোল … তা শনিবারের এই সাড়ে আটটায় মুম্বাইয়ের মতো শহরে একটু ট্র্যাফিকের ভিড় তো থাকবেই। পিছন থেকে গাড়ীগুলো কেমন পোঁ পোঁ করে হর্ন বাজাতে বাজাতে বেরিয়ে যাচ্ছে, সাইড মিরার দিয়ে দেখলে পিছনে বহু গাড়ীর হেডলাইট সার সার দেখা যাচ্ছে। তবে এভাবে জিতুকে ভড়কে দেওয়া যায় না, সে অন্তত ছ বছর মুম্বাইয়ের রাস্তায় গাড়ী চালাচ্ছে। একটা প্রাইভেট কার বোধহয় জিতুর সাইড লাইটের দপদপানি দেখে একটু আস্তে চালাচ্ছিল … ব্যাস জিতু এই রকম একটা কিছুর ধান্দায় ছিল। সামনের ট্যাক্সিটা বেরিয়ে যেতেই টুক করে রাস্তায় ভিড়িয়ে দিল তারপর স্পীড নিয়ে লেনের ঠিক মাঝখানে চলে এল। এবার আর কি, সোজা চালিয়ে যাও … কিন্তু কোথায় যাওয়া যায় সেটাই একটা প্রশ্ন। বাড়ী যাওয়া, ম্যানেজমেন্টের ব্রোসিওর … এ সবই তো বাজে কথা, মাম্পিকে একটু ইম্প্রেস করার জন্য। যাই হোক, যাওয়ার জায়গা অনেকই আছে, খারের ওদিকে জগাই, অরুনেশদের ঠেকেও তো বেশ কিছুদিন যাওয়া হয়নি, আজ না হয় ওদের সাথেই কাটান যাক। ওরা একটু সস্তা টাইপের একটা ধাবা খানার দোতলায় বসে, বাজি রেখে রামি খেলে আর র রাম গলায় ঢালে … সেটা আজকে মন্দ হবে না। জিতুর রাত বারোটা অবধি ঘোরা ঘুরিতে কোন অসুবিধা নেই। শিষ দিতে দিতে আর ভাবতে ভাবতে জিতু গাড়ী চালিয়ে আসছিল … মিনিট পাঁচেক কেটেছে, হঠাৎ কেমন একটা অন্য ভাবনা তার মাথায় এলো … আচ্ছা, মাম্পি তাকে ঠিক কথা বলেছে তো? মেয়েটা কোন দুনম্বরি খেলা খেলছে না তো? এই বয়সের মেয়ে, তাদেরই সমবয়সী হবে … কোথাও কোন ধান্দা তো থাকতেই পারে … পারে না? বা কোন প্রেমিক? অবশ্যই পারে, তাছাড়া জিতু নিজেও প্রেমের ব্যাপারে ঘা খাওয়া, সেটাও আবার সেই অন্য প্রেমিকের জন্য তার সাথে টিনার সম্পর্কটা কেটে গেছে। নাঃ, ব্যাপারটা একটু দেখতে হচ্ছে। জিতু আবার সতর্ক হয়ে গেলো, নিজের মনকে আবার কনট্রোলে এনে চারিদিকে দেখতে লাগলো … কোথায় একটা ইউ টার্ন করা যায়। একটু পরে পেয়েও গেলো … এখানে রাস্তাটা বোধহয় সারাচ্ছে … সব গাড়ীই এখানে স্লো যাচ্ছে, সার দিয়ে কমলা রঙের প্লাস্টিকের চোঙাগুলো রাস্তায় পরে আছে … হেড লাইটের আলোয় কেমন চক চক করছে, এর জন্য রাস্তাটায় ড্রাইভিং স্পেস একটু কম হয়ে গেছে। একটা বড় হলুদ রঙের রাস্তা সমান করার ট্রাকটার দাঁড়িয়ে আছে, পাশে বেশ কয়েকটা পিচের টিন দাঁড় করান … আর রাস্তার পাসে জমির ওপর স্টোন চিপস আর বালির পাহাড় … এর মধ্যেই জিতুর চোখ একটা ফাঁকা টার্ন নেবার জায়গা খুজে পেলো, সেটাও আবার ঠিক একটা সরু গলির মুখ। জিতু এই সব রাস্তা খুব ভালো করেই চেনে, এখান থেকে টার্ন নিয়ে আবার কোন পাশের ছোট রাস্তা, সেখান থেকে আবার বাঁ দিকে মোড় নিলেই সে উল্টো দিকে ড্রাইভ করতে থাকবে … তার মানে আবার সেই মোড়ের দিকে যেখানে মিনিট সাতেক আগে সে মাম্পিকে ছেড়ে এসেছে। জিতু এবার একটু থ্রিল অনুভব করলো … মাই গড, গোপনে সে একটা মেয়েকে ফলো করছে, এটা অবশ্য কাউকে বলা যাবে না কারণ তার বন্ধুরা অনেকেই মাম্পিকে চেনে। এটা তার নিজস্ব ব্যাপার হয়েই থাকবে।

 

*******

 

একটু আনমনে গাড়ী চালাতে চালাতে ঘাড়টা একটু বাঁ দিকে ঘোরাতেই … ওয়াহ্‌ … কি দৃশ্য। রাত্রের সমুদ্র এতো সুন্দর হয়…! সত্যি কথা বলতে কি, সমুদ্রের জল টল আলাদা করে খুব একটা বোঝা যাচ্ছে না, কিন্তু জলপথে যাতায়াত করা কিছু ছোট বড় বোট আর দূরের আলোকমালা তায় আবার ওই বোটের আলো গুলো খুব দ্রুত সরে যাচ্ছে … কি অবিশ্বাস্য একটা সৌন্দর্য্য তৈরী করেছে। মহাদেব খানিকক্ষণ অবাক হয়ে সেদিকে তাকিয়ে রইল। একটু নেমে পায়চারী করার খুব ইচ্ছে হচ্ছিল কিন্তু … না … আজ থাক, আজকে আবার তার একটা অ্যাপয়েন্টমেন্ট রয়েছে। আজকে শনিবারের রাত হওয়া সত্যেও রাস্তায় তেমন ভিড় নেই, মহাদেব আবার ড্রাইভিঙয়ে কনসেনট্রেট করলো … যদি একটু আগেই পৌছান যায়।

ম্যাজেস্টিক মলের সামনেটা বেশ ঝামেলার, মানে তিনটে রাস্তা এসে মিশেছে ঐ মোড়ে। তার ওপরে ওখানে গোটা দূয়েক বড় বড় রেস্তোরাঁ, একটা রোড জয়েন্টের ধাবা, আর একটা মাল্টি স্ক্রিন মুভি থিয়েটার আছে। ম্যাজেস্টিক মলের সামনেই একটা বড় পার্কিং লট যদিও আজ সেটা প্রায় সম্পূর্নই ভর্তি। লোকে এই রাস্তার জয়েন্টে এসে গাড়ী পার্ক করে আসে পাশের নানা দোকানে বা রেস্তোরাঁতে ঢুকে যায় … অনেকে আবার একটু হেঁটে পাশেই খান্না মার্কেটে চলে যায়, সেখানে মিডল ক্লাস ফ্যামিলির উপযোগী বহু রেডিমেড জামা কাপড়ের দোকান আছে … আর আছে একটা বেশ বড় সবজি পট্টি যেখানে সারাদিনই ফ্রেস সবজি বিক্রি হয়।

মহাদেব প্রথমেই ম্যাজেস্টিক মলের পার্কিং লটটা একবার পাক মারলো … কিন্তু কোন ফাঁকা জায়গা চোখে পরলো না। ঘড়ির দিকে একবার তাকাল … ঠিকই তো আছে মনে হয়, এই পৌনে নটা মতো বাজে, খুব দেরী তো হয় নি। সে আবার পার্কিং লট থেকে বেরিয়ে এলো … এই সব ব্যাপারে কি করতে হয় মহাদেব সেটা জানে। সে খুব আস্তে আস্তে ড্রাইভ করতে করতে মাল্টি স্ক্রিন মুভি থিয়েটারের দিকে চালাতে লাগলো আর রাস্তার আনাচে কানাচে চারি ধারে দেখতে লাগলো কোথাও কোন রোড সাইড পার্কিং প্লেস পাওয়া যায় কিনা … এবং পেয়েও গেলো। কোন এক ফ্যামিলি বোধহয় মুভি থিয়েটারের পাশেই সাউথ ইন্ডিয়ান রেস্তোরাঁ মঙ্গলমস্‌ কেরালিয়ান ডিসেস – এ খেতে এসেছিল … ঠিক সেই মুহুর্তে ওরা সবাই হই হই করে বেরিয়ে এসে গাড়ীতে উঠে বসলো, ঠিক পিছনেই মহাদেব আস্তে আস্তে আসছিল। ওদের গাড়ীটা ধিরে ধিরে রাস্তায় উঠে একটু এগিয়ে যেতেই মহাদেব সেই ফাঁকা যায়গায় পার্ক করলো। যায়গাটা একটু ঘুপচি মতো, সরাসরি কোন বড় স্ট্রীট লাইট ওখানে আলো দিচ্ছে না। মহাদেব খুশীই হলো, তার গাড়ীটা দামি, সে চায়না যে বহু লোকের চোখের সামনে ওটা অনেক্ষণ পার্ক করা থাক। আজকালকার যা জমানা, কেউ শুধু একটা স্ক্রু ড্রাইভারের খোঁচা দিয়ে গেলেও গাড়ীর গায়ে যা দাগ পড়বে সেটা সারাতেই পকেট থেকে হয়তো হাজার টাকা বেরিয়ে যেতে পারে। গাড়ী একটু অন্ধকারে পার্ক করা থাকলে কোন ক্ষতি নেই মহাদেবের। নামার আগে মহাদেব আয়নায় নিজের মুখটা একবার দেখে নিল, এই বয়সে তার মুখ তো ভালোই আছে … চুলটা একটু হাত দিয়ে ঠিক ঠাক করে নিল, সামনের দিকটা বেশ কমে গেছে। তা যাক, তার ইন্ডাস্ট্রীতে যা পোজিশান … যা ব্যাঙ্ক ব্যালান্স, দরকার হলে দশবার সে হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করতে পারে। সেরকম দরকার হয়নি বলে করেনি। তাছাড়া টাকায় কি না হয়, কত বড় বড় টাকই বিক্রি হয়ে যায়, তাতে মহাদেবের এই মিডিয়াম টাক। ঠিক সময় এই টাকও বিক্রি হবে, চিন্তার কিছু নেই। মনে মনে সে বেশ খুশিই আছে, ছোট্ট একটা বোতাম টিপে সে ক্যাব্রিওর মাথার রিমুভেবল্‌ ছাদটাকে আবার সামনে নিয়ে গাড়ীর ওপরটা ঢেকে দিল … দরজা দিয়ে রাস্তায় নেমে রিমোট টিপে গাড়ীটা লক করলো। এবার ফুটপাথে উঠে ডান দিকে তাকাল … সামনের একটু জায়গায় রাস্তার আলো একটু কম কিন্তু পাশের একটা ছোট্ট বাইলেন পার হলেই চারিদিকে আলোর বন্যা … অসংখ্য লোক নানা ধান্দায় এদিক ওদিক যাওয়া আসা করছে। এর মধ্যে থেকে রিয়াকে খুঁজে বার করা একটু ঝামেলাই হবে। ওসব দরকার নেই, মহাদেব নিজের মোবাইলটা পকেট থেকে বার করলো, রিয়াকে লোকেট করার সব থেকে সোজা উপায় হলো ওকে একটা ফোন করা।

 

এগার।

 

বাঁ দিকে বালির পাহাড় আর পিচের টিনগুলোর ফাঁক দিয়ে চোখে দেখা যায় শুধু ছোট্ট একটা ফাঁক … তার পরেই একটা ছোট্ট গলি। জিতু সেইটুকুই চায়, সেটাই যথেষ্ঠ। স্টিয়ারিংটা সে বোঁ করে বাঁ দিকে ঘুরিয়ে দিল। একটু নরম রাস্তার ওপর দিয়ে গাড়ীটা স্প্রিঙয়ের মতো লাফিয়ে বালির কুশনের ওপর দিয়ে গলির মধ্যে ঢুকে পরলো … পিছনে ভেষে এলো হিন্দিতে কিছু বাছা বাছা খিস্তির অস্পষ্ট আওয়াজ। ও সব চলে, ব্যাচেলর গ্রুপের মধ্যে বসে মাল টানা আর বাজি রেখে তাস খেলতে খেলতে জিতু, অর্ক, দলজিতরাও কম খিস্তি করে না। ওটা বোধহয় সব বড় শহরেরই টিপিক্যাল একটা ব্যাপার। গলিটা বাইরে থেকে গলি হলেও একটা গাড়ী স্বচ্ছন্দে চলে যায়। চাকার তলায় পিচের সঙ্গে বালি আটকে থাকায় গাড়ীটা চলার সময় রাস্তার সাথে ঘষে কেমন সরসর আওয়াজ হচ্ছে … হোক গিয়ে, জিতু এখন যত তাড়াতাড়ি ওই মোড়টায় যেতে চায়, তার লক্ষ্য মাম্পি। গলিটা অবশ্য খালি নয়, কিছু টিন এজার ছেলে মেয়ে এখানেও বিয়ারের বোতল হাতে আসর জমিয়েছে। এরকম অবশ্য মুম্বাইতে আকছাড়ই হয়, বেশীর ভাগ হোটেল রেস্তোরাঁই উইকএন্ডে ভর্তি এবং ভিষণ কস্টলি, কাজেই টিন এজাররা সুপার মার্কেট থেকে বিয়ার কিনে রাস্তাতেই কোথাও বসে পড়ে … পার্কে বা মাঠে বা এই রকম কোন ছোট বাইলেনে, মানে যে কোন ফাঁকা জায়গায়। জিতু বা তার বন্ধুরা যথেষ্ঠ ফরচুনেট কিন্তু এই ছেলে মেয়েরা অতটা নয়, কিন্তু আনন্দ ব্যাপারটা তো সবারই প্রয়োজন কাজেই …। জিতু ওদের পেরিয়ে গিয়ে একটু এগোতেই গলির মোড়টা এসে গেলো … মোটামুটি চওড়াই বলা চলে … জিতু গলির মুখে একটু দাঁড়িয়ে দেখে নিল, বেশ ভালোই গাড়ীর ভিড় … কিন্তু তাতে কি … একটু অপেক্ষা করে একটু গাড়ীর ফ্লো কমলেই নিজের ফোর্ডটাকে ওই ভিড়ের মধ্যে ঢুকিয়ে দিল। ব্যাস, ঝামেলা শেষ … এবার মিনিট পাঁচেক চালিয়ে সামনের মোড়ে এলেই তো সেই মাল্টি স্ক্রিন মুভি থিয়েটারটা পড়বে … একবারে সোজাসুজি নয়, তবে একটু হাঁটলেই রাস্তার ওপারে মুভি থিয়েটার আর তার পরেই একটু সামনে হাটলে সেই ভিষণ ব্যাস্ত জাঙ্কশান যেখানে মল, রেস্তোরাঁ আর খান্না মার্কেট একসাথে রয়েছে। ওফ্‌ … এই শনিবারে ওখানে যে কত লোক তার ঠিক নেই, তার মধ্যে মাম্পি আর তার ফ্রেন্ডকে খুঁজে বার করা … হুম্‌ … সহজ একদমই নয়। মাম্পিকে ছেড়ে আসার পর হয়তো মাত্র মিনিট পনের কেটেছে কিন্তু এর মধ্যে মাম্পি কোথায় চলে গেছে বা কোন রেস্তোরাঁয় ঢুকে গেছে তা বলা মুসকিল। যাই হোক, জিতু চেষ্টা করবে … হাতে সময়ের কোন অভাব নেই। দেখা যাক, তার লাকটা আজ কেমন যায়।

 

*****

 

মহাদেব মোবাইলে নাম্বারটা ডায়াল করলো …। কয়েক সেকেন্ড বাদেই সেই মিস্টি মেয়েলি স্বরটা ভেষে এলো …

রিয়া। হাই দেবু … it is Riya here।

দেবু। রিয়া, তুমি কোথায়? আমি তো এই মাত্র পার্ক করেছি … জাস্ট গাড়ীটা লক করলাম।

রিয়া। ok , nice । আমি তো ওমপ্রকাশ বিউটি পারলারের সামনে দাঁড়িয়ে … তুমি কোথায় আছ?

দেবু। শোন, তুমি পারলার থেকে তোমার ডান দিকে হাঁটতে থাক। আমি তোমার থেকে বেশি দূরে নেই কিন্তু এত লোক তো তাই দেখা যাচ্ছে না। আমার গাড়ীটা কেরালিয়ান ডিসেস-এর অপোসিটে পার্ক করেছি। তোমার হার্ডলি তিন চার মিনিট লাগবে এখানে আসতে।

দুজনে ফোন নামিয়ে রাখল। মহাদেব তার কালো লেক্সাসের গায়ে হেলান দিয়ে অপেক্ষা করছিল। তিন চার মিনিট নয়, তবে মিনিট সাতেক বাদেই রিয়া অপোসিট ফুটপাথ থেকে হাত তুলে হাই বললো। মহাদেব ওকে হাত তুলে এদিকে আসতে বললো … রিয়ার সাথে আজ তার প্রথম দেখা, কাজেই তার দামি লেক্সাস ক্যাব্রিওটা তো ওকে দেখাতেই হয়। ফার্স্ট ইম্প্রেশান বলে কথা।

রিয়া একটা ব্লু জিন্স আর একটা কালো ফুল টি সার্ট পরেছিল, মাথার চুলটাতেও কোন মহামাড়ি ফ্যাশান নেই, দুটো বিনুনি করে পিছনে পিঠের অপর আলতো করে ফেলা। মহাদেবের প্রথম দর্শনে মেয়েটাকে ভালো লাগলো। বন্ধুত্বের এই একটা ভীষণ ঝামেলা, দুজনকে দুজনের পছন্দ না হোলে বন্ধুত্ব মোটেই গাঢ় হয় না। শুধু এক দিক থেকে এগুলে দুজনের বন্ধুত্ব জোড়া লাগে না। মাঝখানের রাস্তায় তখন গাদা গাদা গাড়ি এদিক ওদিক যাচ্ছে, রিয়া রাস্তা পার হওয়ার ইচ্ছায় এপাশ ওপাশ তাকাতে লাগলো।

ঐটাই বোধহয় সেই ভদ্রলোক, কারণ আর কাউকে তো দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে না। অন্যরা সবাই হেঁটে চলে যাচ্ছে যে যার কাজে … উনিই তো ওখানে গাড়ীর কাছে দাঁড়িয়ে আছেন। হ্যাঁ, চেহারাটাও ছবির সাথে বেশ মিলে যাচ্ছে … এখন একটু বয়স্ক বলেই মনে হচ্ছে কিন্তু একসময় দেখতে মন্দ ছিলেন না। অবশ্য স্বাস্থ্যটা এখন বেশ ভালো। রিয়া হাত তুলতে উনিও একটু হেঁসে হাত তুললেন। ভদ্রলোকের জামা কাপড় বেশ ধোপদুরস্ত … একটা জিন্স আর সার্ট পরে এসেছে, ভালো চয়েস দেবুর।

গাড়ীর স্রোতের একটু ফাঁক পেতেই রিয়া হাল্কা পায়ে কয়েক স্টেপ দৌড়ে রাস্তাটা পার হয়ে এলো। দেবু কয়েক পা এগিয়ে এলো …

দেবু। Good evening Riya। Happy to meet you।

রিয়া। Same here। কতক্ষণ অপেক্ষা করছো?

দেবু। আরে … দশ মিনিটও হবে না। ভাবলাম তোমাকে আমার গাড়ীটা দেখাই, মাত্র মাস তিনেক হলো কিনেছি। তারপর দুজনে কোথাও গিয়ে বসে কথা বার্তা বলা যাবে। গাড়ী করে তোমার পছন্দের কোন রেস্তোরাঁতেও যাওয়া যেতে পারে।

রিয়া গাড়ীটা কাছে গিয়ে দেখলো … রিয়েলি নিউ এন্ড রাদার ইম্প্রেসিভ। গাড়ীটা একটু অন্ধকারে পার্ক করা বলে রাস্তার ওপার থেকে খুব একটা বোঝা যাচ্ছিল না … কিন্তু এখন ক্লিয়ার। পুরো জেড ব্ল্যাক কালারের গাড়ীটা অল্প আলোতেও ঝক ঝক করছে। রিয়া উজ্জ্বল চোখে দেবুর দিকে তাকাল …

রিয়া। ওয়াও … কি নাইস কার…। দারুণ ভালো লাগলো … তুমি তো এটারও একটা ছবি পাঠাতে পারতে।

দেবু। না না , সেরকম কিছু নয়। তবে গাড়ীটা আমার খুব প্রিয় তাই তোমাকে দেখালাম … তুমিও তো আমার বন্ধুই। যাক, বলো কোন দিকে যাবে?

রিয়া। আমি তো একটু আগেই কিছু খেয়েছি, হেভি কিছু আর এখন খাব না। তবে চলো, কাছেই কোথাও বসে কিছু স্ন্যাক্স খাওয়া যেতে পারে।

দেবু একটু ভাবলো, তারপর বললো – সেরকম অপশান অবশ্য অনেক আছে। কিন্তু আজ শনিবার তো, তাই বেশীর ভাগ রেস্তোরাঁ বা ম্যাকডোনাল্ডস এখন দারুণ বিজি। এই অপোসিটে কেরালিয়ান ডিসেস, এখন তো ঢুকতে পারবে না … ওদিকে আর একটু এগিয়ে কি একটা নর্থ ইন্ডিয়ান আছে না, কি যেন নাম জগগুস নর্থ ইন্ডিয়ান ডিসেস না কি যেন। সেখানেও যাওয়া যায় … ওদিকে একটা ধাবাও আছে … আমি অবশ্য সেটায় খাইনি কখন … তোমার কি ওপিনিয়ন?

রিয়া। চল … একটু হেঁটে মলের ওদিকটায় যাই, দেখি কিছু ফাঁকা আছে কিনা। তবে মলের দোতলায় একটা কে.এফ.সি. আছে … বেশ বড়। যদি তোমার খারাপ না লাগে তাহলে ওখানে কিছুক্ষণ বসতে পারি। ওখান থেকে খুব সুন্দর সি ভিউ আছে … যাবে?

দেবু। চল … যাওয়া যাক। আমি কয়েকবার ওখানে খেয়েছি, মন্দ নয়। হাতে তাড়া থাকলে খুব কম সময়ে পেটে কিছু দেওয়া যায়।

রিয়া আর মহাদেব আস্তে আস্তে ভিড় ঠেলে মলের দিকে এগুতে থাকে। একটু ফাঁকায় এসে রিয়া একটু লাজুক হেসে বললো – জানো, কে.এফ.সি.-র জিনজার বার্গার আমার দারুণ প্রিয়। তুমি একদিন টেস্ট করে দেখ।

দেবু ওর দিকে তাকিয়ে একটু হাসলো, অফিসের দিনে লাঞ্চে সে যথেষ্ট দামি খাবারই খেয়ে থাকে। বেশ ভালো হোটেল থেকে তাদের খাবার আসে। তবে রিয়া সরল ভাবে তাকে একটা কথা বলেছে তাই সে কিছু বললো না।

 

বার।

 

ওরা এগিয়ে এসে মলের চত্তরে প্রবেশ করলো … জায়গাটা আলোয় দিনের মতো উজ্জ্বল। বিশাল একটা হল ঘরের মধ্যে একটা হাঁটার করিডোর, তার একদিকে হরেক রকম গ্রীন ভেজিটেবল মার্কেট আর অন্য দিকটায় ফিস আর মিট মার্কেট। হলে ঢুকেই ডান দিকে একটা এস্কালেটর আর তার পাশেই একটা এলিভেটর, অন্যান্য ফ্লোরে যাবার জন্য … ঠিক তার পাশেই একটা বোর্ডে পাঁচ তলা মলের কোথায় কি পাওয়া যায় তার একটা ডেসক্রিপশান আর ফ্লোর নাম্বার দেওয়া রয়েছে, সেই সঙ্গে কয়েকটা এমারজেন্সি নাম্বার। প্রত্যেক ফ্লোরেই রয়েছে ইনফরমেশান ডেস্ক। ওরা দুজন এস্কালেটর দিয়েই ওপরে উঠে গেল … দোতলায় বাঁ দিকে বেশ কয়েকটা বিখ্যাত গার্মেন্টস আর অন্যান্য শো রুম … রেমন্ডস, ময়ূর, ভন হাউসেন, পিটার ইংল্যান্ড, গুচ্চি ইত্যাদি আর ডান দিকে বেশ বড় একটা কে.এফ.সি.। সেখানেও বেশ ভিড় তবে ওরা কাচের জানলার পাশেই একটা ফাঁকা টেবিল পেয়ে গেলো … বেশীর ভাগ অল্প বয়সী ছেলে মেয়েরা এখানে খাবার প্যাকেটে নিয়েই বাইরে চলে যায় … আজ শনিবার, কে আর ঘরের মধ্যে বসে থাকতে চায় … বাইরেই তো মজা বেশী।

ওরা দুজনে খাবারের ডিস নিয়ে বেশ গুছিয়ে জানলার ধারে বসলো। পাশেই বিশাল কাঁচের জানলা দিয়ে রাত্রের কালো আরব সাগর দেখা যাচ্ছে। সেই অন্ধকারের মধ্যেই ছোট বড় নানা সাইজের বোট যাতায়াত করছে … কালোর মধ্যে আলোর এক একটা রুপোলী তিরের মতো। দূরে মুম্বাই শহরের ছোট ছোট আলো যেন অসংখ্য জোনাকির মেলা। মহাদেব আজকে হঠাৎ আবিস্কার করলো যে এই ভিড়ের মধ্যেও মুম্বাই শহরে এমন কিছু কিছু মনকাড়া জায়গা রয়েছে যা সে জানে না। মহাদেব লক্ষ্য করলো যে রিয়াও কেমন যেন অন্য মনস্ক ভাবে জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে, হয়ত ওর মনের কোনেও কোন একলা সারা ছোট্ট একটা পাগল শিশু বাসা বেঁধে আছে। যাদের মনে এই ছোট্ট বাচ্চাটা বড় হবার পরও বেঁচে থাকে, তাদের একাকিত্বে কখন ভয় করে না … আজকালকার ছেলে ছোকরাদের অনেকেরই মনের বাচ্চাটা অকালেই মরে যায়।

মহাদেব তার নিজের জন্য পুরো লাঞ্চ ডিস নিয়েছে … এখনই প্রায় নটা কুড়ি বাজে … এখানেই ডিনারটা শেষ করে নেওয়া ভালো, এর পর আর বাড়ীতে গিয়ে খাবার ইচ্ছা নেই। রিয়া তো একটা বার্গার, ফ্রুটস্‌ আর একটা ছোট্ট পটেটো ফ্রাইয়ের অর্ডার দিল, আর সফট ড্রিঙ্কস্‌। মহাদেবই সব পে করেছে, তার অবশ্য অনেক ভালো কোথাওই যাওয়ার ইচ্ছা ছিল কিন্তু রিয়া সেরকম ইচ্ছে দেখাল না, তার বোধহয় খাওয়ার থেকে কথা বলার ইচ্ছে অনেক বেশী।

মহাদেব তার বিগ ফ্রাইয়ের প্যাকেট থেকে একটা ফ্রাই নিয়ে মায়োনেজ সসে ডুবিয়ে মুখে পুরলো, তারপর খানিকটা তাড়িয়ে তাড়িয়ে চিবিয়ে বললো – রিয়া, how is life? ফেসবুকে তো বিশেষ কিছু লেখোনি, আরো কিছু বল …।

রিয়া। সেরকম কিছু নয় … আমরা দিল্লিতে ছিলাম, তারপর বাবা মুম্বাইতে এলো, সেই সঙ্গে আমি আর মা … ব্যাস। দেবু, তোমার পেজটাতো আরো ফাঁকা, পাস্ট লাইফ নিয়ে তো কিছুই নেই … আজকে কিছু বলতেই হবে।

দেবু। হ্যাঁ … আসলে নিজের জীবন নিয়ে লেখার সেরকম সময় পাই নি। আমি কোলকাতায় পড়াশুনো করেছি, তারপর প্রথম চাকরীটা পেয়েছিলাম বাঙ্গালুরুতে। বেশ ভালোই কেটেছে সেখানে, তা … প্রায় বছর সাতের বা তারও বেশী ছিলাম সেখানে। তারপর এই নতুন চাকরী এখানে, তাও তো প্রায় বছর দশেক হয়ে গেলো … এই তোমাদের বঢ়া-পাওয়ের দেশে।

রিয়া ফিক করে একটু হাসলো, তারপর ঠোঁটে আঙুল রেখে বললো – নো, দেবু … এসব একদম বোল না। মুম্বাইতে আরো অনেক কিছু চার্মিং খাবার পাওয়া যায় … হোয়াট এ্যবাউট চানা বাটোরা …?

দেবু। গুড … ভেরি গুড। বাটোরে আমার খুব প্রিয়, প্রতি সপ্তাহে এক বা দুবার তো লাঞ্চে খাইই।

রিয়া বার্গারে একটা ছোট্ট কামড় বসাল, ঠোঁটের পাশে একটু সস লেগে ছিল … সেটাকে টিস্যু পেপার দিয়ে মুছে খানিকতা চিবিয়ে নিয়ে বললো – তোমার অফিসটা যেন কোথায়? ঠিক কি কাজ কর?

মহাদেব অবশ্য প্রথম দিনেই অত পার্সোনাল খুঁটিনাটির মধ্যে যেতে চায় না … এর পরেও যদি দেখা হয় তাহলে অনেক সময় পাওয়া যাবে। সে একটু ভাসা ভাসা করে যতটা সম্ভব বললো, তারপর কথা ঘুরিয়ে দেবার জন্য বললো …

দেবু। আচ্ছা রিয়া, তাহলে তুমি এখন কি কর? কিছু পড়াশুনো করছ না চাকরী …?

রিয়া। হ্যাঁ, সব বলছি। আচ্ছা … হুমম্‌ … তাহলে তুমি সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিতে আছ … রাইট? খুব ভালো … তাহলে তুমি নিশ্চয়ই ম্যানেজার ট্যানেজার হবে? রাইট? খুব নিশ্চয়ই ঘোরাঘুরি করতে হয়… হয়না?

দেবু প্রথমেই উত্তর দিল না, আধ খানা বার্গার ডিসে রেখে একটু কোলা সুরুত করে স্ট্র দিয়ে টেনে নিল, মুখের ভিতরটা কেমন একটা ঠান্ডা কোলার স্বাদে ভরে গেল। তারপর আরো দুটো আলু ভাজা লাল টোম্যাটো কেচাপে ডুবিয়ে মুখে পুরে দিল … বেশ জব্বর করে এই ফ্রাইগুলো। খেতে খেতে দেবু রিয়ার দিকে তাকাল, রিয়া তখন বেবি কর্নের টুকরোটা নিয়ে কুটুর কুটুর করে খাচ্ছে আর উজ্জ্বল চোখে তার দিকে তাকিয়ে আছে। দেবু এবার ওর দিকে তাকিয়ে একটু মাথা নারলো …

দেবু। হুঁ, তা ঠিক। কাজের চাপ আছে, বেশ ভালোই ঘুরতে হয়।

রিয়া। তাহলে তো তুমি ভারতের বাইরেও যাও? রাইট? কতদিনের জন্য যাও…?

দেবু। হ্যাঁ, বাইরেও যাই, তবে আমাদের পোজিশানে খুব বেশিদিন বাইরে থাকতে হয় না … এই ধর দিন সাত বা দশ, তাতেই যথেষ্ঠ। আমাদের তো বিজনেস ট্যুর, পোস্টিং নয় …।

রিয়া বাইরে অন্ধকারে আরব সাগরের দিকে তাকিয়ে ছিল, ঝট করে উত্তর দিল না, তারপর কেমন একটা আনমনা স্বরে বললো – হ্যাঁ, তাও তো ঠিক। তোমরা তো ম্যানেজার। আমার একজন রিলেটিভ আছে, ওকে তো মাঝে মাঝেই বাইরে পাঠায়, ছ মাস বা এক বছর বাইরে থাকতে হয়।

দেবু। অল্প বয়সে সবাইকেই এরকম বাইরে থাকতে হয়। আমার ঐ বয়সে আমাকেও হয়েছে। আমি তো অনেক বললাম, এবার তোমার কথা কিছু বল।

রিয়া আলগোছে স্ট্র দিয়ে একটু কোলা মুখে টেনে নিয়ে বললো – আমি ফেসবুকে যা লিখেছি সেটাই তো। একচুয়ালি আমার কলেজ গ্র্যাজুয়েশান শেষ, … কয়েকমাস বসেছিলাম। তারপর বোর হয়ে এখন হোটেল ম্যানেজমেন্ট কোর্সে ঢুকেছি … সবে কয়েকমাস হোল।

দেবু। ভালোই করেছ, এখন তো হসপিটালিটী ম্যানেজমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিতে প্রচুর চাকরী আছে। মুম্বাইতে প্রচুর অপশান।

রিয়া একটু হাসলো – Let us hope so।

তারপর কি মনে করে রিয়া একটু হেসে বললো – আচ্ছা দেবু, তোমার পেজে লিখেছ তুমি গান আর মুভি দুটই ভালোবাস … ঠিক?

দেবু। সার্টেনলি।

রিয়া। কার গান সব থেকে ভালো লাগে? অবশ্য তুমি কিছু কিছু লিখেছ, তাও নিজের মুখে একটু বল ।

দেবু একটা চিকেন উইংস থেকে একটা কামড় মেরে বললো – একটু পুরনো দিনের গায়কদের। এই ধর সায়গল, পঙ্কজ মল্লিক, বড়ে গুলাম আলি, শচিন দেব বর্মন … এই সব।

রিয়া। ওরে বাবা … এই সব তো আমার দাদুদের সময়কার। যদিও খুবই ভালো, একচুয়ালি আমিও পুরনো গান খুব শুনি যখন একা থাকি … তবে কলেজে কাউকে বলি না … আমার বন্ধুরা সবাই ঠাট্টা করবে। আমার তো কিশোর আর হেমন্তকে দারুণ লাগে … তোমার?

দেবু। আরে আমি তো এখন পুরোটা বলি নি … হ্যাঁ … মান্না দে, রফি, হেমন্ত আর কিশোর আমার টপ ফেভারিট, সেই সঙ্গে লতা আর আশা, সুচিত্রা মিত্র, কানন দেবী … ওঁরাও আছেন।

রিয়া। ও হ্যাঁ … আর সন্ধ্যা মুখার্জী … ফ্যানটাস্টিক। তবে কানন দেবীর গান আমি শুনিনি, বাবার কাছে নাম শুনেছি …।

দেবু। কোন গানগুলো তুমি খুব শোন?

রিয়া একটু ভাবলো, তারপর বললো – ঠিক অর্ডার অফ প্রেফারেন্স বলতে পারবো না, তবে মোটামুটি ভাবে একটু পুরনো মুভির গান যেমন সফর, অভিমান, মিলি, আনন্দ … তাছাড়া রাজেশ খান্নার বইগুলোতে বেশ ভালো কিশোর কুমারের গান আছে …।

দেবু। অ্যাবসলিউটলি কারেক্ট … তোমার গানের কান ভালো। আমি এগুলো তো ভালোবাসিই … এছাড়া আছে গাইড, জাল, পিয়াসা, নাগিন, পেয়িং গেস্ট , মধুমতী … এই সব একটু পুরনো দিনের মুভি, তাতেও দারুণ গান পাবে। বিমল রায়ের মুভিতে খুব চমৎকার গান থাকতো … একটু শুনে দেখো …।

রিয়া নিজের জায়গা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বললো – এগুলো তো বাবাও বলে কিন্তু সিডি তো দোকানে পাওয়াই যায় না … আমাদের বাড়ীতে বোধহয় কিছু লং প্লেয়িং রেকর্ড থাকতে পারে।

রিয়ার বোধহয় একটু ফাজলামি করতে ইচ্ছে করলো, সে হঠাৎ একটু হেঁসে বললো – কিন্তু দেবু, তুমি যাই বল, আজকালকার দিনের যে ফাস্ট গানগুলো আছে, যেমন “ঝুম বরাবর ঝুম” বা “চানাচোর গরম বাবু মেলাই মজাদার” … এই গানগুলো কিন্তু সায়গল বা পঙ্কজ মল্লিক গাইতে পারবে না … ঠিক বললাম?

মহাদেব উইটটা বুঝতে পারলো, সেও একটু মুচকি হাসলো, তারপর বললো – খুবই ঠিক, সেরকম ভাবে বললে “দিনের শেষে ঘুমের দেশে” গানটা পঙ্কজ মল্লিকের মতো কেউ গাইতে পারবে না। সেই রকম … পুরনো দিনের একটা মুভি আছে, তোমার জন্মের অনেক আগেকার, নাম “শাহ্‌জাহান” … সেই মুভিতে সায়গলের যা গান আছে তা আজকাল আর কেউ গাইতে পারবে না … তোমার বাড়ীতে যারা একটু বয়স্ক তাদের জিঞ্জাসা করে দেখো …।

রিয়া মাথাটা একটু বাও করলো – Logic accepted ।

এই বলে রিয়া মহাদেবকে কড়ে আঙুলটা দেখিয়ে চলে গেল, লেডিস টয়লেটটা কোন দিকে একটু দেখতে হবে। সে একটু হেঁটে গিয়ে দোতলার রেলিঙের ধারে দাঁড়াল, নিচে একতলার পুরো ফ্লোরটা দেখা যাচ্ছে। সে এক চমৎকার দৃশ্য … সে প্রায় কয়েক হাজার মানুষ ঝলমলে আলোর নিচে ঘুরে বেড়াচ্ছে, বাচ্চারা কিডস কর্নারে খেলছে, অনেকেই নানা জায়গায় রাখা চেয়ারে বসে সময়টা এনজয় করছে। একদিকে বেশ বড় ভেজিটেবল বাজার, সেখানেও অনেক লোক শপিং করছে। যারা একতলায় রয়েছে তারা অতটা হয়তো বুঝতে পারছে না, কিন্তু একটু ওপর থেকে দেখলে ভিউটা সত্যিই দেখার মতো। রিয়া রেলিঙে ভড় দিয়ে সেটাই খানিক্ষণ উপভোগ করলো … নাঃ, এই দোতলার কে.এফ.সি.-টা দেখা যাচ্ছে খুব লাইভলি প্লেস। সে বেশ মন দিয়ে একতলার খুশি জনতার দিকে তাকিয়ে রইল …। মাথা ঘুড়িয়ে ঘুড়িয়ে সে এদিক ওদিক দেখছিল হঠাৎ ভিড়ের মধ্যে এলো মেলো ঘন চুলের ব্ল্যাক জিনস পড়া একজনকে দেখে তার বুকটা ধক করে উঠলো … ।

 

 

তৃতীয় পর্ব সমাপ্ত

~ শীল vs. শীল (তৃতীয় পর্ব) ~

 

 

 

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

*